ফ্রি অনলাইন ইনকাম সাইট
ফ্রি অনলাইন ইনকাম সাইট ডিজিটাল যুগে আমরা সবাই অনলাইনে সময় কাটায়। সোশ্যাল মিডিয়া স্কুল করা ভিডিও দেখা গেম খেলা কিংবা নানান বিষয়ে সার্চ করা এই সময়কে কি আপনি আয়ের উৎসে পরিণত করতে চান? হ্যাঁ, এটি একেবারে সম্ভব।
পেজ সূচিপত্রঃ ফ্রি অনলাইন ইনকাম সাইট
- ফ্রি অনলাইন ইনকাম সাইট
- কেন ফ্রি অনলাইন ইনকাম সম্ভব?
- ফ্রি অনলাইন ইনকাম শুরুর আগে সর্তকতা ও বাস্তবতা
- ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে ফ্রি অনলাইন ইনকাম
- ব্লগিং ও ইউটিউবে ফ্রী অনলাইন ইনকাম
- মাইক্রোটাস্কিং ও অনলাইন সার্ভে
- নিজের ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করুন
- সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট
- অনলাইন টিউশনি ও কোচিং
- ফটোগ্রাফি ও স্টক ইমেজ বিক্রি
- শেষ কথাঃফ্রি অনলাইন ইনকাম সাইট
অনলাইন ইনকাম সাইট
অনলাইন ইনকাম সাইট ইন্টারনেটের এই যুগে আপনার সময় এবং দক্ষতাকে অর্থের রূপান্তর করার অসংখ্য সুযোগ রয়েছে । ফ্রি অনলাইন ইনকাম সাইট গুলো সেই সুযোগকে সবার জন্য উন্নক্ত করেছে।এসব সাইটে কোন রেজিস্ট্রেশন ফি বা প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী সাইট বেছে নিতে পারেন। যেমন, যদি আপনি লেখালেখি , ডিজাইন বা ডেভেলপমেন্ট এর দক্ষ হন, তাহলে আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ডট কম ও ফাইবার এর মতো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস আপনার জন্য। সেখানে ক্লাইন্টদের জন্য কাজ করে আয় করতে পারেন।
আপনি যদি ছোট ছোট কাজ পছন্দ করেন তাহলে অ্যামাজন মেডিকেল টার্ক বা ঘড়ির কাটার কাঁটা এর মত মাইক্রো ডাস্কিন সাইডে ডাটা এন্ট্রি , ছাড়বে সম্পূর্ণ করে নগদ অর্থ বা গিফট কার্ড উপার্জন করতে পারেন। মনে রাখবেন, এসব সাইটে আয় শুরুটা খুব কম হলেও ধৈর্য এবং নিয়মিততা রাখতে পারলে এটি বাড়তে থাকবে। শুরুতেই অতিরিক্ত আয়ের লোভনীয় অফার এড়িয়ে চলুন এবং কখনোই কোন সাইটকে পাসওয়ার্ড বা ব্যাংক বিস্তারিত তথ্য দেবেন না। সর্তকতা মেনে এগোলে এই সাইটগুলোই হতে পারে আপনার বাড়তি আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস ।
কেন ফ্রি অনলাইন ইনকাম সম্ভব?
অনলাইনে আয়ের কথা ভাবলে আমাদের মাথায় প্রথমে যে ছবি ভেসে ওঠে, তাহলো বিনিয়োগের প্রয়োজন । অনেকেই মনে করেন, অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে হলে আগে টাকা খরচ করতে হবে। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। বর্তমান ইন্টারনেট ইকোনমি কনটেন্ট এবং অ্যাটেনশন এর ওপর চলে। কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য বিক্রি করতে ব্যান্ড পরিচিতি বাড়াতে এবং সার্ভিস প্রচার করতে আপনার মত সাধারণ ইউজারদের ওপর নির্ভর করে। তারা চায় আপনি তাদের বিজ্ঞাপন দেখুন আপনার মতামত দিন, আপনার তৈরি কনটেন্ট শেয়ার করুন অথবা আপনার বিশেষ দক্ষতা দিয়ে তাদের কিছু কাজ করে দিন।
বিনিময়ে তারা আপনাকে অর্থ প্রদান করতে প্রস্তুত। ফ্রি অনলাইন ইনকামের মূলমন্ত্র হলো আপনার ব্যবহৃত সময় এবং লুকিয়ে থাকা দক্ষতাকে একটি পণ্য এ পরিণত করা । আপনি হয়তো খুব ভালো বাংলা লিখতে পারেন, অথবা হয়তো গ্রাফিক ডিজাইনের দক্ষতা আছে কিংবা ভিডিও এডিটিং শিখছেন ইউটিউব দেখে এই সামান্য দক্ষতা গুলোই হতে পারে আপনার আয়ের মূল চাবিকাঠি। আমরা শুধু মাত্র সেই পদ্ধতি আলোচনা করব যেগুলো শুরু করতে আপনার কোন টাকা প্রয়োজন পড়বে না শুধু প্রয়োজন ইচ্ছা শক্তি এবং নিয়মিত সময় দেওয়ার মন মানসিকতা থাকলেই চলবে।
ফ্রি অনলাইন ইনকাম শুরুর আগে সর্তকতা ও বাস্তবতা
অনলাইন ইনকাম এর জগতে প্রবেশের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা অন্তত
জরুরী। বিষয়গুলো হলোঃ
অতিরিক্ত আয়ের প্রতিশ্রুতি থেকে দূরে থাকুনঃ দিনে 1 ঘন্টা কাজ করে ৫০
হাজার টাকা আয় করুন এই ধরনের লোভনীয় অফার গুলো শতকরা ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে স্ক্যাম।
অনলাইন ইনকাম একটি ধীর প্রক্রিয়া। শুরুতে হয়তো মাসে অল্প কিছু টাকা আসবে ,
কিন্তু ধৈর্য ধরে কাজ করলে সেটাই এক সময় মাসে লক্ষ্য দিয়ে টাকায় পরিণত
হতে পারে।
কোনরকম রেজিস্ট্রেশন ফি দেবেন নাঃ অনেক সাইট আপনাকে কাজ পেতে মেম্বারশিপ
ফ্রি বা ট্রেনিং ফ্রি দাবি করবে । এসব এড়িয়ে চলুন, আসল ফ্রিল্যান্সিং বায়ের
প্ল্যাটফর্ম কখনোই অগ্রিম টাকা চায় না।
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখুনঃ কখনোই আপনার ব্যাংক একাউন্টের পাসওয়ার্ড, ওটিপি অথবা ক্রেডিট কার্ডের পিন কাউকে দেবেন না। শুধুমাত্র বিশ্বস্ত প্রেমের গেটওয়ে (যেমন পেপাল , বা সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে লেনদেন করুন।
ব্লগিং ও ইউটিউবে ফ্রী অনলাইন ইনকাম
আপনি যদি কোন বিষয়ে গভীর আগ্রহ ও জ্ঞান রাখেন, তাহলে ব্লগিং বা ইউটিউব
চ্যানেল আপনার জন্য দুর্দান্ত একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
ব্লগিংঃ কোন একটি বিষয়ে জ্ঞান দরকার,(যেমন ঃ রান্না, টেক রিভিউ , ভ্রমণ, স্বাস্থ্য টিপস) এবং নিয়মিত লিখার অভ্যাস।
কিভাবে আয় হয়?
(গুগল এডসেন্স)আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয়।(অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং) আমাজন এফিলিয়েট এর মত প্রোগ্রামের যোগ দিয়ে অন্যান্য কোম্পানির পণ্য রিভিউ লিখে সেই পণ্যর লিংক শেয়ার করুন। কেউ সেই লিংক থেকে পণ্য কিনলে আপনি কমিশন পাবেন। (স্পন্সর পোস্ট)আপনার ব্লগ জনপ্রিয় হয়ে উঠলে কোম্পানিগুলো টাকার বিনিময়ে তাদের পণ্যর প্রচারের জন্য পোস্ট লিখতে দিবে। কোথায় ব্লক শুরু করবেন? ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগার আপনি বিনামূল্যে ব্লগ শুরু করতে পারেন।
ইউটিউবঃ একটি স্মার্ট ফোন, বেসিক ভিডিও এডিটিং দক্ষতা এবং উপস্থাপন
করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
কিভাবে আয় হয়?
(ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম) আপনার চ্যানেলে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাবস্ক্রাইবার ও
ওয়াচ আওয়ার্স পূরণ হলে আপনি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন চালু করতে পারেন।(অ্যাফিলিয়েট
মার্কেটিং) ভিডিওর ডেসক্রিপশনে পণ্যর লিংক দিয়ে কমিশন আয়।(স্পন্সরশিপ)
ব্র্যান্ডগুলো আপনার অডিওতে তাদের পণ্য দেখানোর জন্য টাকা দিবে।
ব্লগিং ও ইউটিউব থেকে আয় করতে সময় লাগে প্রথমত ছয় মাস বা এক বছর কোন আয়
নাও হতে পারে।কিন্তু ধৈর্য ধরে টিকে থাকতে হবে তাহলে সফল হতে পারবেন।
আরো পড়ুনঃপ্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত
মাইক্রোটাস্কিং ও অনলাইন সার্ভে
ফ্রি অনলাইন ইনকাম সাইট আপনার যদি বড় কোন প্রজেক্ট এর সময় না দিতে
চান, তাহলে ছোট ছোট কাজ করে আয় করতে পারেন। এটি পার্ট টাইম আয়ের জন্য
বেশ ভালো একটি দিক।
মাইক্রোটাস্কিংঃ বড় একটি কাজকে ছোট ছোট টুকরো করে ভাগ করে দেওয়া হয়।
যেমন; কোন ছবিতে কি আছে তা লেভেল করা, সংক্ষিপ্ত ভিডিও দেখে তার
বর্ণনা লিখা, তথ্য রিসার্চ করা ইত্যাদি।
জনপ্রিয় সাইটঃ এমাজন মেডিকেল টুর্ক, ক্লিক ওয়ার্ক , মাইক্রো ওয়ার্ক
ইত্যাদি।
অনলাইন সার্ভেঃ বাস্তবতায় আই তুলনামূলকভাবে কম, কিন্তু কাজের চাপ
কম এবং যেকোনো সময় করা যায়। বিভিন্ন মার্কেট রিসার্চ কোম্পানি তাদের পণ্য ও
সার্ভিস সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই। সার্ভে পূরণ করার বিনিময়ে তারা
আপনাকে অর্থ বা গিফট কার্ডের প্রদান করে।
সতর্কতাঃ অনেক সাইড স্ক্যাম করে, শুধুমাত্র বিশ্বস্ত ও পরিচিতি
সাইটেই কাজ করুন। কখনোই সার্ভের জন্য আলাদা ফ্রি দেবেন না।
নিজের ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করুন
নিজের ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করা হলো অনলাইন ইনকামের সবচেয়ে মজবুত এবং টেকসই উপায়। যখন আপনি একটি ডিজিটাল পণ্য তৈরি করেন, তখন আপনি মূলত একবার পরিশ্রম করে বহুবার বিক্রির সুযোগ পান। এটি এক ধরনের প্যাসিভ ইনকাম, যেখানে পণ্য তৈরি হওয়ার পরও আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও বা অন্য কাজ করলেও এটি বিক্রি হতে থাকে এবং আপনার একাউন্টে টাকা জমা হয়। ডিজিটাল পণ্যর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এতে কোন শারীরিক জিনিসের প্রয়োজন হয় না, তাই না কোন গুদাম ভাড়্ না প্যাকেজিং খরচ,না কুরিয়ার চার্জ।
আপনি কি ধরনের ডিজিটাল পণ্য তৈরি করতে পারেন? সম্ভাবনার শেষ নেই। আপনি যদি কোন বিষয়ে জ্ঞান রাখেন, তাহলে একটি ই-বুক বা ডিজিটাল গাইড তৈরি করতে পারেন। যেমন এক মাসে "ইংরেজিতে কথা বলা শিখুন বা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন"।ফ্রি অনলাইন ইনকাম সাইট এর বাহিরে আপনি ডিজিটাল টেমপ্লেক্স বিক্রি করতে পারেন। ক্যানভা বা পাওয়ার পয়েন্ট ব্যবহার করে তৈরি করার রিমিজি ট্যামপ্লেক্স ব্যবসায়িক কার্ড বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এর টেমপ্লেটের চাহিদা প্রচুর ,গ্রাফিক্স ডিজাইনের দক্ষ ব্যক্তিরা আইকন প্যাক ফন্ট বা লোগো ডিজাইন ও বিক্রি করতে পারে।
আপনি যদি প্রযুক্তিগত জ্ঞান রাখেন তাহলে ওয়েবসাইটের থিম বা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন হতে পারে আপনার ডিজিটাল পণ্য। এই পণ্য বিক্রির জন্য গামরোড,পেহিপ বা সেন্স এর মতো ব্যবহার-বাবন্ধ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন, যারা খুব সামান্য কমিশনে আপনার পণ্য বিক্রি করতে সাহায্য করে। আপনি চাইলে আপনার নিজের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন সেখানে ই-কমার্স এর মত টুলস ব্যবহার করে সরাসরি বিক্রি করতে পারেন। নিজের ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করা শুধু আয়ের উৎসই নয়, এটি আপনার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড গড়ে তোলারও একটি শক্তিশালী উপায়।
সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট
আপনি যদি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটা্ লেন্ডিং এর মত প্লাটফর্মের সক্রিয় থাকেন এবং কিভাবে কনটেন্ট তৈরি করলে বেশি লাইক, শেয়ার ও এনগেজমেন্ট পাওয়া যায় তার একটি স্বাভাবিক বোধ আপনার থাকে তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট আপনার জন্য একটি চমৎকার কেরিয়ার অপশন হতে পারে।ফ্রি অনলাইন ইনকাম সাইট আজকাল প্রায় সব ব্যবসা এবং ব্র্যান্ডিং একটি শক্তিশালী অনলাইন উপস্থিতির প্রয়োজন কিন্তু তাদের নিজেদের সময় বা দক্ষতা না থাকায় তারা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টগুলো ম্যানেজ করার জন্য কাউকে নিযুক্ত করে।একজন ম্যানেজার হিসেবে আপনার কাজ কি হবে?
আপনি তাদের জন্য কন্টেন ক্যালেন্ডার তৈরি করবেন,নিয়মিত আকর্ষণীয় পোস্ট স্ট্যাটাস লিখবেন অডিয়েন্স কমেন্ট এর রিপ্লাই দেবেন এবং ক্যাম্পেইনের পারফরমেন্স বিশ্লেষণ করবেন। প্রথমে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল গুলোকে একটি প্রোমোশনাল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।দেখান যে আপনি কি ভাবে এনগেজমেন্ট তৈরি করতে জানেন। তারপর স্থায়ী ছোট দোকান,স্টার্টআপ বা উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করুন।অনলাইন টিউশনি ও কোচিং
নিজের জ্ঞান এবং দক্ষ তাকে একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশায় রূপান্তর করতে চান ?তাহলে অনলাইন টিউশনি ও কোচিং আপনার জন্যই তৈরি হয়েছে! এটি শুধু আই এরি নয় তৃপ্তিরও একটি অন্যান্য উৎস। আপনার যখন বোঝার ক্ষমতা একজন শিক্ষার্থীর চোখে আত্মবিশ্বাসের আলোয় ঝুলিয়ে দেয়, বা একজন পেশাদারকে তার ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে সাহায্য করে তখন তার মূল্য অপরিসীম। গণিত বা ইংরেজি মত একাডেমিক বিষয় হোক কিংবা গিটার বাজানো ইতালিয়ান ভাষা শেখা বা শেখানোর মতো বিশেষ দক্ষতা প্রতিটি জ্ঞানী মূল্যবান।
google meet-বা zoom এর মতই ব্যবহার ব্যবহার বান্ধব প্লাটফর্মে মাধ্যমে আপনি বিশ্বের যে কোন প্রান্তের শিক্ষার্থীর সাথে যুক্ত হতে পারেন ,এবং বুঝাতে পারবেন আপনার বাড়ির আরামদায়ক পরিবেশ থেকেই।tutor.com এর মত বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট আপনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের সেবা পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। এটি এমন একটি পেশা যেখানে আপনি শুধু অর্থই উপার্জন করবেন না পাশাপাশি গড়ে তুলবেন একটি অর্থপূর্ণ সম্পর্কের নেটওয়ার্ক। আপনার জ্ঞান আলো ছড়িয়ে দিন এবং উপভোগ করুন আর্থিক স্বাধীনতা ও আত্মতৃপ্তির এক অন্যান্য সঙ্গ।
ফটোগ্রাফি ও স্টক ইমেজ বিক্রি
আপনার ফোনের গ্যালারিতে থাকার রঙিন মুহূর্ত গুলো কি শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক আর কমেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? নাকি সেগুলো পরিণত করবেন একটি স্থায়ী আয়ের উৎসে। আপনার তোলা প্রতিটি ছবি হতে পারে একটি ক্ষুদ্র আয়ের খনি যা মাসে পর মাস আপনাকে দিতে পারে আর্থিক স্বাধীনতা। স্টক ফটোগ্রাফির জগতে প্রবেশ করার জন্য আপনার প্রয়োজন নেই কোন পেশাদার ক্যামেরা বা জটিল সরঞ্জাম। আপনার স্মার্টফোনটি হতে পারে আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার গুরুত্বপূর্ন হলো আপনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং সৃজনশীলতা।
যখন আপনি সকালের নরম আলোতে একটি ফুটপাতের চায়ের দোকানে ছবি তুলছেন কিংবা সন্ধ্যায় রক্তিম আকাশের নিচে করছেন।তখনই আপনি তৈরি করছেন এমন একটি শিল্পকর্ম যা বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান। আপনার চারপাশে সাধারন বিষয়গুলি হতে পারে আপনার অসাধারণ ফটোগ্রাফির বিষয়। একটি রিক্সা পেছনে লেগে থাকে পলিথিনের রংবেরঙের ফিতা রাস্তার পাশে বসে থাকা, একটি কুকুরছানা কিংবা বর্ষার দিনে ছাতা হাতে হাঁটছে একজন মানুষ এই দৈনন্দিন দৃশ্যগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে অন্তত মূল্যবান প্রয়োজন শুধু ঠিক কম্পোজিশন এবং আলোর ব্যবহার।
স্টক ফটোগ্রাফি থেকে আয় এর সম্ভাবনা প্রায় অসীম। একটি সফল ছবি মাসের পর মাস এমনকি বছরজুড়েও আপনাকে আই দিতে থাকে। শুরুতে হয়তো আয় হবে কিন্তু যখন আপনার পোর্টফোলিও হয়ে ২০০-৩০০ টি কোয়ালিটি ছবি জমা হবে তখন মাসে অধিক টাকা আয় করা কোন অসাধ্য ব্যাপারই নয়।অনেক বিদেশি ফটোগ্রাফার শুধুমাত্র স্টক ইমেজ বিক্রি করে সচ্ছল জীবন যাপন করছেন। শুরু করার পদ্ধতি সহজShutterstock, Adobe Stock, Getty Images এর মত আরও বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্মে ফ্রি একাউন্ট তৈরি করুন। প্রতিটি ছবির জন্য যথাযথ কিবোর্ড এবং বর্ণনার যোগ করুন-এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আপনার ছবিকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিবে।
নিয়মিত আপলোড করা সাফল্য চাবিকাঠি। সপ্তাহে মাত্র পাঁচ থেকে দশটি কোয়ালিটি ছবি আপলোড করলে এক বছরে আপনার পোর্টফোলিও বেশ impressive হয়ে উঠবে।মনে রাখবেন, বাংলাদেশের দৈনন্দিন জীবন , সংস্কৃতি , উৎসব এসব এসবের ছবি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্তত জনপ্রিয়।আপনার তোলা একটি সাধারণ ছবিও হতে পারে কোন আন্তর্জাতিক প্রকো সনের বইয়ের প্রচ্ছদ , বিজ্ঞাপনের অংশ , কিংবা অপারেট প্রেজেন্টেশনের উপাদান। স্টক ফটোগ্রাফি ক্যারিয়ার শুধু আর্থিক স্বাধীনতাই দেয় না , এটি আপনার শিল্পীর সত্তাকে অলস প্রকাশের একটি মাধ্যম। প্রতিটি ক্লিক আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে বিশ্ব দরবারের উপস্থাপন করেন।
যখন আপনি দেখবেন আপনার তোলা ছবি দিয়ে কোন আন্তর্জাতিক ব্যান্ডের বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়েছে তখন যে তৃপ্তি বা ইনকাম আসবে সেটা আপনি নিজেও ভাবতে পারবেন না। তাহলে আর বিলম্ব কেন? আজই আপনার ফোনের গ্যালারি খুলুন আপনার সেরা ছবিগুলো বাছাই করুন এবং স্টক সাইটে আপলোড করুন আপনার জানা নেই আপনার তোলা পরবর্তী ছবিটি হতে পারে আপনার ইনকামের বা সাফল্যের চাবিকাঠি।
শেষ কথাঃফ্রি অনলাইন ইনকাম সাইট
ফ্রি অনলাইন ইনকাম সাইট এই দীর্ঘ আলোচনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, ইন্টারনেট সবার জন্য অসংখ্য সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে। এই পথটি সহজ নয়, এতে ধৈর্য ধরতে হবে অধ্যবসায় এবং শেখার মন মানসিকতার প্রয়োজন থাকতে হবে। অনেক সময় হতাশা আসবে , কিন্তু ভেঙ্গে পড়লে চলবে না মন খারাপ করলে হবে না। কিন্তু যারা লেগে থাকেন তারা একসময় সফল হন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি হল শুরু করা ।
আজই একটি পদ্ধতি বেছে নিন যা আপনার দক্ষতা এবং আগ্রহের সাথে মেলে। সেই একটি পদ্ধতিতে মাস্টার হওয়ার চেষ্টা করুন।ইন্টারনেটে সেইসব বিষয়ে অসংখ্য ফ্রী রিসার্চ টিউটোরিয়াল এবং কমিউনিটি রয়েছে যা আপনাকে গাইড করবে। নতুন নতুন স্কিল শেখাতে কখনো ভয় পাবেন না, বরং এটিকে একটি মজার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন। মনে রাখবেন অনলাইন ইনকাম শুধু টাকা কামানোই নয়, এটি একটি জীবন যাপনের পদ্ধতি।
এটি আপনাকে স্থায়ী সীমা ছাড়িয়ে গ্লোবাল মার্কেট পৌঁছে দিবে। আপনাকে স্বাধীনতা দেবে আপনার সময় ও কাজের পরিবেশ নিজের নির্ধারণ করার। তাই আর দেরি করবেন না, আপনার লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে খুঁজে বের করুন।একটি পরিকল্পনা করুন এবং আপনার অনলাইন আয়ের যাত্রা শুরু করে দিন আজ এই মুহূর্ত থেকেই। শুভকামনা রইল আপনার এই যাত্রায় ধন্যবাদ আমার এই আর্টিকেলটি সম্পন্ন করার জন্য আপনার যদি কোথাও বুঝতে কোন সমস্যা থাকে তাহলে আমাকে ইনবক্স করুন ধন্যবাদ।


সফটনড়িতে নীতিমালা ; মেনে ;কমেন্ট করুন ;প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url