ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াস

ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াস ত্বকের যত্নে আজকাল আর শুধু নারীদের একাই বিষয় নয়। আধুনিক জীবনযাপন দূষণ ও কাজের চাপের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল ত্বক ধরে রাখতে পুরুষরাও এখন সচেতন। আর এই রূপচর্চার প্রথম ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মুখ পরিষ্কার করা।

ছেলেদের -মুখের -তৈলাক্ততা -দূর- করার- ফেসওয়াস

বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের জন্য একটি উপযুক্ত ফেসওয়াশ হতে পারে সকল সমস্যার সমাধান। এই প্রবন্ধে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব কিভাবে একটি সঠিক ফেসওয়াশ আপনার তৈলাক্ত ত্বক উজ্জ্বল ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। 

পেজ সূচিপত্রঃ ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াস


ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াস

ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াস ,ছেলেদের ত্বক প্রাকৃতিক ভাবেই বেশি তৈলাক্ত হওয়ার মূল কারণ হলো  টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রভাবে সেবাশিয়াস গ্রন্থির অত্যাধিক সক্রিয়তা যা ত্বকে চকচকে বরুণ প্রবণ ও অস্বস্তিকর করে তোলে। এই সমস্যা প্রশমনে একটি উপযুক্ত ফেসওয়াশী হতে পারে আপনার দৈনন্দিন ত্বক পরিচর্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। একটি ভালো ফেসওয়াশ কেবল ময়লা ও ঘামি দূর করে না বরং এটি ত্বকের গভীরে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল ব্যাকটেরিয়া ও মৃত কোষকেও নির্মূল করে।তবে যে কোন ফেসওয়াশের এই কাজে সক্ষমতা কিন্তু নয় বেছে নিতে হবে এমন একটি ফর্মুলা বা বিশেষভাবে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুব ভালো উপকারী ।

এর জন্য আপনার স্যালিসিলিক   অ্যাসিড চারকোল বা নিয়াসিনামাইডের এর মত কার্যকারী উপাদান সমৃদ্ধ ফেসওয়াস এর সন্ধান করা উচিত। স্যালিসিলিক অ্যাসিড ছিদ্রের গভীরে প্রবেশ করে সেগুলো পরিষ্কার রাখে চারকোল একটি শক্তিশালী ম্যাগনেটের মতো ময়লা গুলো চুষে নেয় এবং নিয়াসিনামাইড তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে এনে ছিদ্রের আকার দেখতে ছোট করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এমন ফেসওয়াশ পরিহার করা জরুরী যা ত্বককে শুট করে না এবং ত্বক টানটান করে তুলে কারণ এটি প্রায় সই ত্বকের তার ক্ষয় পূরণ করতে আরো বেশি তেল উৎপাদনে বাধ্য করে।

যা সমস্যাকে আরো প্রকট করে তোলে। সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি ও সমান গুরুত্বপূর্ণ হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ভিজিয়ে নরম হাতে ফেসওয়াশটি খেয়ে নিয়ে পুরো মুখে মেসেজ করুন বিশেষভাবে মনোযোগ দেন কপাল না থুতনি টিজন এ এবং তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন পুরো ফেস। মনে রাখবেন একটি গুণগত ফেসওয়াস কোন বিলাসিতা নয়, বরং এটি হলো তৈলাক্ত ত্বকে মসৃণ ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল রাখার ভিত্তিমূলক পদক্ষেপ , যা আপনার সামগ্রী চেহারায় এনে দিতে পারে সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর এর ইতিবাচক পরিবর্তন।

ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার প্রকৃতিক নিয়ামক

ছেলেদের ত্বকের তৈলাক্ততা নিয়ন্ত্রণে প্রকৃতিক নিয়ম গুলো ভূমিকা অপরিসীম, যা শরীরবিত্ত ও প্রক্রিয়া ও বাহ্যিক অভ্যাসের অভ্যাসের এক সুনিন্ত্রিত সমন্বয়। মূলত টেস্টোস্টরেন হরমোনের প্রভাবে সেবা সিয়াস গ্রন্থি সমূহের অতি সক্রিয়তায় এ মূল কারণ যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে চকচকে পরিপূর্ণ ও ব্রণ প্রবণ। তবে এই প্রকৃতির প্রবণতাকে রোধ করতে পারে জীবন যাপনের আরো কিছু প্রাকৃতিক নিয়ম। প্রথমত খাদ্য অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সবুজ শাক-সবজি ও মেগা থ্রি যুক্ত মাছ এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল সেবন নিঃসরণের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ।

অন্যদিকে তেল মসলাযুক্ত খাবার ও প্রক্রিয়াজাত শর্করা তৈলাক্ততা বাড়াতে পারে শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিয়ে ত্বকের মেটাবলিজম কে সচল রাখে যা পরোক্ষ ভাবে তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে আনে। তৃতীয়তঃ নিয়মিত ব্যায়াম এটি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ত্বকে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করতে সাহায্য করে ফলে টক্সিন দূর হয় ও ছিদ্র পরিষ্কার থাকে। চতুর্থ,স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি সরাসরি সেবন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে তাই পর্যাপ্ত ঘুম এই ক্ষেত্রে অন্তত কার্যকর। প্রকৃতির টপিক্যাল ব্যবহার মুলতানি মাটি, চন্দন , নিম ও টি ট্রি ওয়েল এর মত উপাদান।

ত্বকের গভীর থেকে অতিরিক্ত তেল চুষে নিয়ে ছিদ্র সংকুচিত করা ছাড়া ত্বকের প্রকৃতিক আর্দ্রতা। এই সমস্ত প্রকৃতির পদ্ধতির সৌন্দর্য হলো এগুলো কোন কৃত্রিম রাসায়নিকের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং নিজের শরীরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাকে সম্মানিত করে ।তাই ফেসওয়াস বা ওষুধের পাশাপাশি এই নিয়মগুলোর প্রতি সচেতনা ও প্রয়োগেই পারে একটি স্থায়ী ও স্বাস্থ্যকর সুবিধা এর সন্ধান দিতে।

ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াস এর ভূমিকা

তৈলাক্ত ত্বক পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি উপযুক্ত ফেসওয়াস ভূমিকা অপরিহার্য ও মৌলিক যা কেবলমাত্র সাধারণ পরিস্কারের কার্যক্রমে পালন করে না বরং এটি একটি সুস্থ ত্বক ভিত্তিক গঠনের প্রাথমিক স্বরূপ। ছেলেদের ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই অধিক মাত্রায় শিবাম নিঃসরণের প্রবণতা প্রদর্শন করে যার ফলে মুখমণ্ডল হয়ে ওঠে চকচকে অস্বস্তিদায়ক ও ব্রণ ও সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য অনুকূল আবাসস্থল এর প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষভাবে নির্মিত ফেসওয়াশে পারে ।

এই চক্রের মূলে আঘাত আনতে এর প্রাথমিক কার্যক্রম হলো জল ও তেল এই দুইটি পরস্পর বিরোধী উপাদানের মধ্য সেতুবন্ধন তৈরি করা ফেসওয়াশে বিদ্যমান  সার্ফ্যাক্ট্যান্টস নামক বিশেষ যৌগগুলি তেলকে দ্রবীভূত করে এবং এটিকে একটি এমালসিফায়েড অবস্থায় নিয়ে আসে, ফলে সাধারণ পানি দিয়ে ধুলেই তা সহজে অপসারিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় ফেসওয়াশ ত্বকের উপরিভাগের শুধু দৃশ্যমান ময়লা ও ঘামই দূর করে না, বরং এটি ছিদ্রের গভীরে প্রবেশ করে সঞ্চিত তেল, মৃত কোষ ও ও পরিবেশগত টক্সিন কে নিষ্কাশন করে।

যা সাধারণ পানির নাগালের বাহিরে থেকে যায় একটি উচ্চতর মানের ফেসওয়াশ যা স্যালিসিলিক এসিড, চারকোল বা নিয়াসিনামাইদের মত সক্রিয় উপাদান এ সমৃদ্ধ,সিবাম তাকে কেবল পরিষ্কারই করে না এটি নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে এনে ছিদ্রগুলিকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে ব্রণ ও ব্ল্যাকহেড সৃষ্টির পথকে বন্ধ করে। তবে এক্ষেত্রে সতর্কতা অত্যাবশ্যক ক্ষার-ভারী পি এইচ ভারসাম্য লিপিড বাধাকে ধ্বংস করতে পারে যা প্যারাডক্সিক আরো বেশি তেল উৎপাদনের দিকে পরিচালিত করে।

তাই একটি সুষম, সালফেট মুক্ত মৃদু ফর্মুলা নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ, যা তোকে তার প্রয়োজনীয় আদ্রতা ধরে রাখতে দেয়। সব ফেসওয়াশ একটি প্রতিরোধমূলক কৌশল, এটি ত্বককে পরিষ্কার শ্বাস গ্রহণের সক্ষম ও পরবর্তী স্কীন কেয়ার প্রোডাক্ট এর কার্যকারিতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করে যার মাধ্যমে এটি সামগ্রিক ত্বককে হেলদি এর ভিত্তি রচনা করে এবং একজন ব্যক্তির আত্মবিশ্বাসের সাথে তার দিনটি শুভ করার পথ চালু করে।

ছেলেদের মুখের ফেসওয়াশ এর সঠিক নির্বাচনের মাপকাঠি

ছেলেদের জন্য ফেসওয়াশ এর সঠিক নির্বাচন একটি সূক্ষ্ম শিল্প, যেখানে ত্বকের প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য ও সমস্যার প্রতি গভীর মনোযোগ দেওয়া অপরিহার্য। এই নির্বাচন কেবলমাত্র একটি পূর্ণ ক্রয় এর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। এটি হল আপনার ত্বকের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ সম্পর্কের সূচনা। সফল নির্বাচনের প্রথম ও সর্বাগ্র মাপকাঠি হল ত্বকের ধরন ও তার অন্যান্য প্রয়োজনীয় তাকে সঠিকভাবে নিশ্চিত করা। যেহেতু পুরুষ ত্বক সাধারণভাবে বেশি সিবাম উৎপাদনশীল এবং এর এপিডার্মিস পুরু তাই এমন একটি ফর্মুলা প্রয়োজন ।যার শক্তিশালী পরিষ্কারের ক্ষমতা রাখার পাশাপাশি ত্বকের প্রকৃতিক আর্দ্রতাকে সম্মান করে। উৎপাদন তালিকায় গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা এই প্রক্রিয়ার হৃদয়। 

তৈলাক্ত ও ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য সালিশিলিক এসিড একটি আদর্শ চয়েজ, যা সিদ্রের গভীরে প্রবেশ করে সেগুলোকে পরিষ্কার করতে সক্ষম। একইভাবে চারকল একটি শক্তিশালী ডিটক্সিফাইং এজেন্ট হিসাবে অতিরিক্ত তেল ও টক্সিন চুষে নেয়। একটি ফেসওয়াশ অ্যাট কন্ডিশন এপ্রোচ গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ অর্থাৎ এমন একটি পণ্য বেছে নেওয়া যা পরিষ্কারের পর ত্বককে লাইট ও দূরে  অনুভূতি ও রিফ্রেশ দেয় এই সমস্ত মাপকাঠি বিবেচনা করে নির্বাচিত একটি দেশবাসী পারে কিন্তু পরিচর্যা কঠিন কে একটি কার্যকর ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতায় পরিণত করতে, শেষ পর্যন্ত প্রতিফলিত হয় একটি পরিষ্কার স্বাস্থ্য উজ্জ্বল ও আত্মবিশ্বাসী চেহারায়।

ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াস এর সঠিক ব্যবহার

একটি উন্নত মানের ফেসওয়াস ও তার সর্বোচ্চ কার্যকারিতা তখনই প্রদর্শন করতে সক্ষম হয় যখন তার একটি সুপরিকল্পিত ও কোমল পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রয়োগ করা হয়। ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফেসিয়াল এর সঠিক ব্যবহার কেবলমাত্র মুখে কিছু ফেনা লাগানো এবং ধুয়ে ফেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকের গভীর পরিষ্কার ও দীর্ঘস্থায়ী তেল নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেন। এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয় প্রস্তুতিমূলক ধাপ থেকে প্রথমেই দুই হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে যেন হাতের ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া ত্বকের সংগঠন আসে । 

এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ভর্তি ভিজিয়ে নেওয়া কারণ গরম পানি স্বাভাবিকভাবে চিত্রগুলোকে প্রসারিত করে এবং জমে থাকা তেল ও ময়লা নিষ্কাশনের পথ সুগম করে। পরবর্তীতে একটি মুদ্রার পরিমাণ ফেসওয়াশ নিয়ে দুই তালুর মত পর্যাপ্ত পরিমাণে ফেনা তৈরি করে নিতে হবে, এই ফেনাই হলো সংক্রিয় উপাদান গুলিকে সমভাবে বিস্তারের বাহক। মুখে প্রয়োগের সময় আঙ্গুলের ডগা ব্যবহার করে বৃত্তাকার মৃত গতিতে মেসেজ করতে হবে।যেখানে কপাল নাক ও থুতনির টিজনের বিশেষ নজর দেওয়া আবশ্যক কেননা এই অঞ্চল গুলোতেই সেবা সেয়াস  গ্রন্থের ঘনত্ব সর্বাধিক।

এই মেসেজের সময় কাল কমপক্ষে ৩০ থেকে৬০ সেকেন্ড বজায় রাখা উচিত, যা সক্রিয় উপাদান গুলো যেমন শালি শালিক অ্যাসিড বা চারকোল কে তাদের হ্যাঁ কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য অপ্রয়োজনীয় সময় দান করে। তারপর গরম পানি নয় বরং হালকা কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পানি দিয়ে সম্পূর্ণরূপে ধুয়ে ফেলতে হবে, যাতে কোন রেসিডিউ ত্বকে অবশিষ্ট না থাকে। সবশেষে একটি নরম, পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে আলতো চাপের টেপ করে ত্বক শুকানো উচিত ।

কখনোই ঘষে নয় কারণ ঘর্ষণ তোকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে এবং তেল উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে পারে এই সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি সাফল্য নির্ভর করে ধৈর্য ও নিয়মিত ওপর সকাল ও রাত ২ দিনে দুই বারের বেশি নয় এই পদ্ধতিতে ফেসওয়াশ ব্যবহারে পারে তৈলাক তোতা দূর করে একটি পরিষ্কার সতেজ ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের ভিত্তি স্থাপন করতে।

জীবনযাত্রার প্রভাব শুধু ফেসওয়াশেই যথেষ্ট নয়

একটি উন্নত মানের ফেসওয়াশ তৈলাক্ত ত্বক পরিচর্যার একটি উন্নত কার্যকারী হাতিয়ার হলেও, এটি কোন একক ও স্বয়ংসম্পন্ন  সমাধান নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর ও সামগ্রিক কাঠামোর অংশ মাত্র যার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। ত্বক আমাদের শরীরের সর্ববৃহৎ অঙ্গ , এবং এটি অন্তত সূক্ষ্মভাবে আমাদের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য খাদ্যবাস মানসিক অবস্থা ও পরিবেশগত প্রভাবে সাথে সংযুক্ত। আপনি যদি বিশ্বের সর্বোত্তম ফেসওয়াশ ব্যবহার করেন, কিন্তু আপনার জীবন যাপন পদ্ধতি যদি বিশৃঙ্খল ও অস্বাস্থ্যকর হই।

তবে তাকে বল অস্থায়ী ও পৃষ্ঠা স্তরের স্বস্তি দেবে কখনই স্থায়ী ও কার্যকারী ফলাফল নিশ্চিত করতে পারবেন না। মিষ্টি তেল মসলাযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দুটো বাড়িয়ে দেয় যা আমাদের দেহে এমন কিছু হরমোন নিঃসরণ ঘটায় যার ফলে তেলের গ্রন্থিগুলো অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। একইভাবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের ফলে সৃষ্টি হওয়া একটি হরমোন সরাসরি তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় এবং ত্বকের জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে ।ফলে ব্রণের প্রকোপ আরো তীব্র হয় এছাড়াও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীরের মেরামত ও জীবনের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে ।

যার ফলে তো তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরে পায় না এবং ক্ষতিকর পদার্থ জমে  থাকে। স্বরূপ ত্বক তার আদ্রতা ধরে রাখতে অতিরিক্ত তেল তৈরি করতে শুরু করে ।এই সমস্ত বিষয়গুলির পাশাপাশি ধূমপান মদ পান এবং দূষিত বাতাসের সংস্পর্শ ও ত্বকের ছিদ্রগুলোকে বন্ধ করে দেয় এবং ত্বকের ক্ষতি কর ।তাই একটি উজ্জ্বল ও তৈলাক্ত মুক্ত ত্বকের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য ফেসওয়াশ এর ব্যবহারকে একটি সমন্বিত কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। 

একটি কৌশল যার মধ্যে রয়েছে একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য তালিকা মানসিক চাপ কমানোর কৌশল প্রতিদিন 60 থেকে.৮০ ঘণ্টা গভীর ঘুম ,পর্যাপ্ত পানি পানি এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এক কথায় ফেসওয়াশ হলো সেই অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ।প্রথম পদক্ষেপ জাতকে প্রস্তুত করে কিন্তু একটি সত্যিকার স্বাস্থ্যকর ত্বকের ভিত্তি রচিত হয় জীবন যাপনের সেই সূক্ষ্ম ও শক্তিশালী মধ্য দিয়ে। যেখানে শরীরের ভিতরে সুস্থতা ও বাহিরের যত্ন একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে।

ব্রণ প্রাবণ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফেসওয়াশ

ব্রণ প্রবণ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি কথা উপযুক্ত ফেসওয়াশ নির্বাচন এবং তার সঠিক ব্যবহার প্রণালী রপ্ত করা একই অপরিহার্য, কেননা এই ধরনের ত্বক একই সাথে দুইটি জটিল সমস্যার সম্মুখীন হয় তথা দিক সেবাম নিঃসরণ এবং পুরনো সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার। সাধারণ কোন ক্লিনজার দ্বারা এই ধরনের ত্বকের গভীর সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন একটি বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত ফর্মুলা যা একই সাথে ত্বকের গভীর স্তর থেকে অতিরিক্ত তেল ও দূর করবে ছিদ্রগুলোকে অন্যক্ত রাখবে এবং ব্রণের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আনবে সর্বাধিক কার্যকারী উপাদান হিসেবে।

স্যালিসিলিক এসিড কে বিবেচনা করা হয় যা তার তেল দ্রবণীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে ছিদ্রের গভীরে প্রবেশ করে জমে থাকা মৃতকোষ তেল ও ময়লা দূর করতে সক্ষম এটি ছিদ্রগুলোকে অবাধ রাখে ফলে ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেড সৃষ্টির পথ রুদ্ধ হয়। আরেকটি অন্তত শক্তিশালী উপাদান হল বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড যা সরাসরি ব্রণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং নতুন ব্রণের উদ্ধব রোধ করে। তবে এটি ত্বককে কিছুটা উষ্ণ করে তুলতে পারে তাই সংবেদনশীল তোকে এটি ব্যবহার ও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

প্রকৃতিক বিকল্প হিসাবে ট্রি ওয়েলের ভূমিকা ও অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ৪ স্বাভাবিক জীবাণু নাশক গুণবালি ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবদের দমন করে।একটি আদর্শ ফেসওয়াশ হবে এমন যা সালফেট ও কঠোর রাসায়নিক পদার্থ মুক্ত কারণ এগুলো ত্বকের স্বাভাবিক তেলিও আস্তরণ নষ্ট করে দেয় ।যার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ ত্বক আরো বেশি তেল উৎপাদন করতে শুরু করে ব্যবহার বিধির ক্ষেত্রে বিশেষ সচেতনা আবশ্যক দিনে সর্বাধিক দুইবার অন্তত কমল হাতে পরিষ্কার করতে হবে ।এবং কমপক্ষে এক মিনিট করতে হবে যাতে স্বয়ংক্রিয় উপাদান সমূহ তাদের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় লাভ করে ।

ফেসওয়াশ প্রয়োগের পর অবশ্যই অ্যালকোহল মুক্ত টোনার এবং তেলবিহীন মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে, যাতে ত্বকের আর্দ্র তার শ্যামাবস্থা আক্ষুণ্ণ থাকে এই বিষয়টি স্মরণে রাখা অন্তত জরুরি ।যে এই ধরনের ফেসওয়াশ ব্রণ ও নিরাময়ের পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয় বরং এটি একটি অন্তত কার্যকারী ব্যবস্থা জাগ্রন সৃষ্টিকারী মৌলিক উৎস সমূহকের লক্ষ্য করে এবং একটি পরিষ্কার স্বাস্থ্যবান ও সমস্যা মুক্ত ত্বকের ভিত্তি প্রস্তুত করে।

দীর্ঘমেয়াদি যত্ন একটি সামগ্রিক রুটিন গড়ে তোলা

তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের স্থায়ী সমাধান কেবল একটি ভালো ফেসওয়াশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও ধারাবাহিক যত্নচর্চার রুটিনের মাধ্যমে সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য প্রয়োজন একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যা ত্বকের গভীর থেকে পরিষ্কার করা, পুষ্টি প্রদান এবং সুরক্ষা দেওয়া এই তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে।প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো একটি মৃদু তবে কার্যকরী ফেসওয়াশ দিয়ে সকাল ও রাতে ত্বক পরিষ্কার করা, যা অতিরিক্ত তেল, ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া দূর করবে।কিন্তু কেবল পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয় পরিষ্কারের পরপরই অ্যালকোহলমুক্ত একটি টোনার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

যা ছিদ্রগুলোকে সুসংরক্ষিত করবে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক অম্লক্ষরণের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে। তৃতীয় ধাপে একটি তেলমুক্ত, অ-ব্রণসৃষ্টিকারী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। যেটি ত্বককে আর্দ্র রাখবে কোনো ধরনের ভারী অনুভূতি ছাড়াই। অনেকেই ভুলে যান যে তৈলাক্ত ত্বকেরও আর্দ্রতার প্রয়োজন এবং পানি শূন্যতা প্রকৃতপক্ষে আরো বেশি তেল উৎপাদনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চতুর্থ এবং অন্তত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হল সানস্ক্রিন। দিনের বেলায় ঘর থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই জেলভিত্তিক বা তেলমুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

যা ক্ষতিকারক সূর্যের রাশি থেকে ত্বককে রক্ষা করবে এবং ত্বকের দাগ হওয়া রোধ করবে। রোদ সপ্তাহে এক থেকে দুইবার একটি হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করা যেতে পারে ।জামরিত কোষ দূর করে ছিদ্রগুলোকে উন্নক্ত রাখবে তবে ক্লাব করার সময় অতিরিক্ত জোরে ঘষাঘষি করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। এই দৈনন্দিন রুটিনের পাশাপাশি জীবনযাত্রার দিকেও নজর দিতে হবে পর্যাপ্ত পানি পান পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ থেকে শক্তিশালী করবে মনে রাখতে হবে।ত্বকের উন্নতি একটি গতির প্রক্রিয়া এক সপ্তাহে অলৌকিক ফলাফল আশা করা বাস্তবসম্মত নয় নিয়মিত ও ধৈর্যই হল দীর্ঘস্থায়ীভাবে একটি পরিষ্কার সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া একমাত্র চাবিকাঠি।

আরো পড়ুনঃ প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত

প্রকৃতির উপায়ে কিছু ঘরোয়া বিকল্প

ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াস ,প্রকৃতির ভান্ডারে রয়েছে তৈলাক্ত ত্বক পরিচর্যার জন্য অফুরান সম্পদ যারাসনে উৎপন্ন বিকল্প হিসেবে কার্যকারী ও নিরাপদ। এই ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো নিয়মিত প্রয়োগের ত্বকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ কমতে ছিদ্র পরিষ্কার রাখতে এবং প্রকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য উপাদান গুলোর মধ্যে ব্যাসন বা ছোলার ময়দাঅগ্রগণ্য। এটি প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয়।

এক চামচ বেসনের সাথে গোলাপজল বা দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে সপ্তাহে দু-তিনবার ব্যবহার করলে ত্বকের চকচকে ভাব কমে যায় এবং মসৃণতা বৃদ্ধি পায়। মুলতানি মাটি আরেকটি অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান, যা শতাব্দীকাল ধরে ত্বক পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই মাটি ত্বকের গভীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ ও অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং ছিদ্র সংকুচিত করতে সাহায্য করে। মুলতানি মাটির সাথে সামান্য গোলাপজল ও এক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক পরিষ্কার হয় এবং ব্রণের উপদ্রব কমে।

টমেটোতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্ট গুণ, যা ত্বকের ছিদ্র টানটান করতে সহায়তা করে। পাকা টমেটোর সরাসরি রস তুলায় নিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখলে তা অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও দই ও ওটমিলের সমন্বয়ে তৈরি স্ক্রাব ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী, যা সপ্তাহে একবার ব্যবহার করা যেতে পারে। নিম পাতার পেস্ট বা ফেসপ্যাক তৈরি করাও খুবই উপকারী, কারণ নিমের প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক গুণ রয়েছে যা ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

এইসব ঘরোয়া পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হওয়ায় ত্বকের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না এবং এগুলো ব্যবহারে ত্বক তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।তবে এটা মনে রাখা জরুরি যে ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোর ফলাফল দেখতে কিছুটা সময় লাগে এবং নিয়মিত ব্যবহারই কেবল কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারে।

শেষ কথাঃ ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াশ

ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াস ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ক্ষেত্রে একটি উপযুক্ত ফেসওয়াশের ভূমিকা অপরিসীম।তবে এটি কেবলই একটি সূচনামাত্র।একটি গুণগত ফেসওয়াশ নির্বাচন এবং তার সঠিক ব্যবহার তৈলাক্ত ত্বক পরিচর্যার ভিত্তি গড়ে তোলে, যা পরবর্তী সকল যত্নের ধাপকে কার্যকর করে তোলে।স্যালিসিলিক অ্যাসিড, চারকোল বা নিয়াসিনামাইডযুক্ত ফেসওয়াশ ত্বকের গভীর স্তর থেকে অতিরিক্ত তেল, ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া দূর করে ছিদ্রগুলোকে উন্মুক্ত রাখে। তবে কেবল ফেসওয়াশই চূড়ান্ত সমাধান নয় এটি একটি সামগ্রিক ত্বক পরিচর্যা রুটিনের অঙ্গমাত্র। 

ফেসওয়াশ ব্যবহারের পর অ্যালকোহলমুক্ত টোনার, তেলমুক্ত ময়েশ্চারাইজার এবং অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহারের মাধ্যমে এই যত্নচক্রকে পূর্ণতা দিতে হয়। এছাড়া জীবনযাপনের সামগ্রিক উন্নতি সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম ছাড়া কেবল ফেসওয়াশের মাধ্যমে স্থায়ী ফলাফল আশা করা যায় না। মনে রাখতে হবে, ত্বকের যত্ন ধৈর্যের সাধনা; একদিনেই পরিবর্তন আসবে না। নিয়মিত ও সঠিক পদ্ধতিতে ফেসওয়াশ ব্যবহারের পাশাপাশি সামগ্রিক জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলেই কেবল তৈলাক্ততা দূর হয়ে ত্বক ফিরে পাবে তার প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও স্বাস্থ্য।একটি উন্নত ফেসওয়াশ তাই কেবল একটি পণ্য নয়, বরং এটি হলো আত্মবিশ্বাসী ও পরিচ্ছন্ন জীবনের দিকে প্রথম পদক্ষেপ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সফটনড়িতে নীতিমালা ; মেনে ;কমেন্ট করুন ;প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url