প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত

কিসমিস বা শুকনো আঙ্গুর শুধু একটি মিষ্টি স্বাদের ড্রাই ফ্রুট নয় এটি একটি প্রকৃতির পুষ্টির পাওয়ার হাউজ ছোটবেলা থেকে আমরা এটিকে স্নেক বা পায়েস পীরনির ৭ বাড়ানোর উপকরণ হিসাবেই চিনে আসছি কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন এই ক্ষুদ্র কার ফলটিতে লুকিয়ে আছে কত গভীর সব স্বাস্থ্য রহস্য?

প্রতিদিন -কতটুকু -কিসমিস- খাওয়া -উচিত
আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে এতই যদি পুষ্টিগুনে ভরপুর হয় তাহলে প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া দরকার আবার কিসমিস খাওয়া কি কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে? এই লেখাটিতে আমরা কিসমিসের গুনাগুন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় কিসমিস কে কিভাবে এটি স্বাস্থ্যকর সঙ্গী করে তুলতে পারেন তার সম্পূর্ণ গাইডলাইন পেয়ে যাবেন এখানে

পেজ সূচিপত্রঃ প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত 

কিসমিস কি এবং কেনই বা এটি একটি সুপার ফুড?

প্রকৃতির ঢালাই সাজানো অসংখ্য স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্য কিসমিস বা শুকনো আঙ্গুর একটি উজ্জ্বল তারকা। এটি দেখতে ছোট চুপসানো ও কুঞ্চিত হলেও এর গুনাগুন আকারে অনেক বড়। কিসমিসকে শুধু একটি মিষ্টি জিনিস হিসেবেই না দেখে এটিকে একটি প্রকৃতি পুষ্টির ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচনা করা যায় ।রান্নায় ৭ বাড়ানোর পাশাপাশি এটি আমাদের শরীরে নানা চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, কিসমিস কি এবং কিভাবে এটি আমাদের একটি আদর্শ সুপারফুটের মর্যাদা পেয়েছে।

কিসমিস কি?

কিসমিস হলো মূলত সতেজ আঙ্গুর,ফলের শুকনো রূপ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আঙ্গুর থেকে পানি বের করে ফেলা হয়। ফলে এটি শুকিয়ে ছোট সংকুচিত ও শক্ত হয়ে যায়, এই শুকানোর প্রক্রিয়ায় আঙ্গুরের প্রকৃতিক চিনি ভিটামিন খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গুলো ঘনত্ব বহু গুণ বেড়ে যায় ।বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের আঙ্গুর ব্যবহার করে কিসমিস তৈরি করা হয় ।যার কারণে এর রং আকার ও স্বাদের কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায় ।যেমন সোনালী বাদামী সুলতানা গারো বর্ণের কালো কিসমিস বা মোনাকা ইত্যাদি কিন্তু প্রায় সব ধরনের থাকে।

কিসমিস কেন একটি সুপার ফুড?

সুপার ফুড শব্দটি এমন সব খাবারের জন্য ব্যবহৃত হয় ।যেগুলো পুষ্টিগুনে অন্তত সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যের জন্য অন্তত উপকারী কিসমিস এই সংখ্যাকে পুরোপুরি সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে ।নিচের কারণগুলো জন্য কিসমিস কে সুপার ফুড বলা যেতে পারেঃ 
প্রকৃতিক শক্তির উৎসঃ কিসমিসে প্রকৃতিকভাবে উপস্থিত ফটো গ্লুকোজ শরীরের দ্রুত শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম ।এটি একটি প্রকৃতিক এনার্জি বারের মতো কাজ করে ,যেকোনো শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তি দূর করতে খেলাধুলার আগে বা পরে বা দুর্বলতা অনুভব করলে এক মুঠো কিসমিস খাওয়া খুবই কার্যকর। এটি রক্তের শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বাড়িয়ে দেয় ,ফলে অলসতা ও ক্লান্তি ভাব দূর হয়।

হজমতন্ত্রের বন্ধুঃ কিসমিসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা আরশ আমাদের হজমতন্ত্রের জন্য অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ।এটি মল নরম করে এবং চলাচল করে ফলে নিয়মিত খাওয়া কষ্ট কাঠিন্যর সমস্যা দূর করতে খুবই সহায়ক । এটি পেট ফাঁপা গ্যাস এবং অম্লের মতো সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে পারে।

হারের স্বাস্থ্য রক্ষাকারীঃ কিসমিসে রয়েছে হার গঠনের জন্য কিছুক্ষণিক উপাদান যেমন ক্যালসিয়াম ক্যালসিয়াম হার ও দাঁতের গঠন মজবুত করে ।অন্যদিকে বরন নামক ঘনিষ্ট ক্যালসিয়াম শোষণের সাহায্য করে এবং হাড়কে শক্তপোক্ত রাখে। তাই নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কিসমিস খাওয়া হাড়ের হয় রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

কিসমিসের পুষ্টি উপাদান

কিসমিস দেখতে ছোট এবং সাধারণ মনে হলেও এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি অসাধারণ খাবার ।এই ক্ষুদ্র আকৃতির শুকনো ফন্টের মধ্যে আছে ।আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য নানা পুষ্টি উপাদান যখন তাজা আঙ্গুরকে শুকিয়ে কিসমিস তৈরি করা হয় ।তখন এর পানি বাষ্পীয়ভূত হয়ে যায় , কিন্তু পুষ্টিগুণ আরো ঘন হয়ে উঠে ।এই কারণেই অল্প পরিমাণ কিসমিস খেলে আমরা পেতে পারি উল্লেখযোগ্য পুষ্টি কিসমিসের সবচেয়ে বড়। বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রকৃতিক শর্করা ও দ্রবণীয় আসে একটি উৎকৃষ্ট উৎসব মাত্র একমাত্র প্রায় ৩০ গ্রাম । কিসমিসে আমরা পাই প্রায়  ৮০ থেকে ৯০ কিলো ক্যালরি শক্তি ।এই শক্তির বেশিরভাগ থাকে ।

প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত ,এই কার্বোহাইডের বেশিরভাগই হলো প্রকৃতিক চিনি খুব টোস্ট ও গ্লুকোজ যা আমাদের শরীরের দ্রুত শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম । এছাড়াও এতে থাকে প্রায় এক থেকে দুই গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ ।যা আমাদের হজম তন্ত্রের জন্য অন্তত উপকারী মজার বিষয় হলো কিসমিস এ প্রোটিন ও চর্বির  পরিমাণ নগণ্য ।প্রোটিন প্রায় ১ গ্রামের কম এবং চর্বি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি খনিজ উপাদানের দিক থেকে কিসমিস একটি পাওয়ার হাউসন। এতে পটাশিয়ামের পরিমাণ প্রায়২২০ মিলিগ্রাম যা আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং দেহের তরল ভারসাম্য রক্ষায় । গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আরো আছে আয়রন প্রায়০.৫ থেকে এক কিলোগ্রাম। যার রক্তশূন্যতা রোধে সহায়ক ক্যালসিয়াম থাকে প্রায় ১৫ মিলিগ্রাম হাড় ও দাঁতের গঠনে কাজ । 

করে ম্যাগনেসিয়াম ও রয়েছে প্রায় দশ মিলিগ্রাম যাহারের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং বিভিন্ন এনজাইম কার্যক্রমে অপরিহার্য ।বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল বরুণ নামক খনিজের উপস্থিতি যা হারকে শক্তিশালী করতে এবং ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা । করে ।ভিটামিনের দিক থেকে কিসমিসের ভিটামিন সি এবং বি কমপ্লেক্স ভিটামিন বিশেষ করে ভিটামিন বি-৬ থাকে । মটেস্ট পরিমাণে তবে কিসমিসের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান । যা আমাদের দেহের ক্ষতিকারক প্রিজার্ডিকেল দূর করতে সাহায্য করে ।দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও অকাল অভার্ধক প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে । সবমিলিয়ে কিসমিসের পুষ্টি উপাদান এটিকে একটি আদর্শ স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ।

কিসমিস খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলো

কিসমিস খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলো এতই ব্যাপক এবং বহুমুখী যে এটিকে প্রকৃতির একটি অসাধারণ উপহার বললেঅত্যুক্তি হবে না। এই ক্ষুদ্রাকৃতির শুকনো ফলটি নিয়মিত এবং সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করলে দেহের বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা উল্লেখযোগ্য উপকার পায়। প্রথমত, হজমতন্ত্রের জন্য কিসমিস একটি বন্ধুসুলভ উপাদান। এতে উপস্থিত ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে খাদ্য চলাচলকে সহজ করে এবং মল নরম করতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, তাদের জন্য কিসমিস একটি প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করতে পারে।

এটি শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূরই করে না, বরং পেট ফাঁপা এবং গ্যাসের সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে সহায়ক।রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করতেও কিসমিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিদ্যমান আয়রন লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সহায়তা করে। বিশেষ করে মহিলা, শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য এটি একটি আদর্শ প্রাকৃতিক Supplement। যারা দুর্বলতা বা ক্লান্তি অনুভব করেন, তাদের জন্য কিসমিস একটি দ্রুত শক্তির উৎস। এর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক চিনি, যেমন ফ্রুক্টোজ এবং গ্লুকোজ, রক্তে দ্রুত শোষিত হয়ে তাৎক্ষণিক শক্তি প্রদান করে, যা দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় কিসমিসের অবদান অনস্বীকার্য। 

এতে ক্যালসিয়াম ছাড়াও রয়েছে বোরন নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা হাড়কে শক্তিশালী করতে এবং ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। নিয়মিত কিসমিস খাওয়া Osteoporosis বা হাড়ের ক্ষয় রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও, হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিসমিসের ভূমিকা রয়েছে। এতে উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম এবং মাত্রার সোডিয়াম রয়েছে, যা রক্তনালীকে প্রসারিত ও শিথিল করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি এর আঁশ খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখে, যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে।মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কিসমিসের ভূমিকা অনেকের কাছেই। সাধারণভাবে ধারণা করা হয় মিষ্টি জাতীয় খাবার দাঁতের জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু কিসমিসের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।

প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত ,কিসমিসে উপস্থিত ওলিনোলিক অ্যাসিড মুখগহ্বরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে, যা দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। তাই পরিমিত পরিমাণে কিসমিস খেয়ে এবং তারপর ভালো করে মুখ পরিষ্কার করলে এটি দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। সর্বোপরি, কিসমিসে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যেমন পলিফেনলস এবং ফ্ল্যাভোনয়েডস, শরীরের ফ্রি র্যাডিকেল neutralized করতে সাহায্য করে, যা ক্যান্সার এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি কমায় এবং ত্বকের youthfulতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সামগ্রিকভাবে, কিসমিসের এই বহুবিধ স্বাস্থ্য উপকারিতা এটিকে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি বিশেষ স্থান দাবি করে।

প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত?

প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত এই বিষয়টি নির্ভর করে আপনার বয়স, স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন কাজের ওপর। সাধারণভাবে বলতে গেলে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের জন্য দিনে এক টেবিল চামচ পরিমাণ কিসমিস খাওয়া ভালো। এই পরিমাণটি ওজনে প্রায় ত্রিশ গ্রামের সমান হয়। এটি থেকে আমরা পাই প্রায় নব্বই ক্যালোরি খাদ্যশক্তি, যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী আঁশ, পটাশিয়াম এবং আয়রনের চাহিদা মেটায়।যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য এই পরিমাণটি কিছুটা কমিয়ে আধা টেবিল চামচ করা যেতে পারে।আর যাদের কাজে বেশি শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়, যেমন খেলোয়াড় বা কায়িক শ্রমের সাথে যুক্ত লোকজন, তারা দিনে দুই টেবিল চামচ পর্যন্ত কিসমিস খেতে পারেন।

 তবে একসাথে অনেক বেশি কিসমিস খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে হঠাৎ করেই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য দিনে এক চা চামচ পরিমাণ কিসমিসই যথেষ্ট। গর্ভবতী নারীরা দিনে বিশ থেকে ত্রিশ গ্রামের বেশি কিসমিস না খাওয়াই ভালো। শিশুদের ক্ষেত্রে কিসমিস খুবই পুষ্টিকর, কিন্তু তাদের শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার ভয় থাকে তাই একেবারে গোটা কিসমিস না দিয়ে তা ছোট টুকরো করে কিংবা ভিজিয়ে নরম করে দিতে হবে। একটি শিশুর জন্য দিনে মাত্র দশ গ্রাম বা এক চা চামচ পরিমাণ কিসমিসই যথেষ্ট।কিসমিস খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একে বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়া। 

যেমন সকালের দই বা ওটসের সাথে মিশিয়ে, ফল বা বাদামের সালাদে ছড়িয়ে, অথবা রান্নায় ব্যবহার করা। এভাবে খেলে একদিকে যেমন অতিরিক্ত খাওয়া রোধ হয়, অন্যদিকে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সাথেও এর গুণাগুণ মিশে যায়।মনে রাখবেন, কিসমিস একটি অতিরিক্ত খাবার, প্রধান খাবারের বিকল্প নয়। এর পূর্ণ উপকারিতা পেতে হলে নিয়মিত কিন্তু পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। আপনি যদি কোনো বিশেষ শারীরিক সমস্যায় ভুগে থাকেন, যেমন ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, বা অন্য কোনো জটিল রোগ, তবে আপনার চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী কিসমিস খাওয়ার সঠিক পরিমাণটি নির্ধারণ করাই হবে সবচেয়ে ভালো ডিসিশন

কিভাবে খাবেন? দৈনন্দিন ডায়েটে কিসমিস যোগ করার মজাদার উপায়

কিসমিস শুধু যে এমনি খাওয়া যায় তা কিন্তু নয়, দৈনন্দিন নানান খাবারের সাথে মিশিয়ে এটি আরও সুস্বাদু করে তোলা যায়। চলুন জেনে নিই কিছু সহজ ও মজার উপায়।সকালের নাস্তার সাথে কিসমিস মিশিয়ে নিতে পারেন। এক বাটি দইয়ের মধ্যে এক চিমটি কিসমিস আর কিছুটা বাদাম মিশিয়ে খান, স্বাদে আর পুষ্টিতে ভরপুর হয়ে উঠবে আপনার নাস্তা। ওটস বা কর্নফ্লেক্সের সাথেও কিসমিস দারুণ যায়।রান্নায় কিসমিসের ব্যবহার অনেক পুরনো। গরম ভাতের উপর কিছুটা কিসমিস ছড়িয়ে দিলে ভাতের স্বাদ বদলে যায়। পোলাও বা বিরিয়ানিতে তো কিসমিস পড়বেই, এগুলোকে আরও সুন্দর রং ও স্বাদ দিতে এর জুড়ি নেই।হালকা ক্ষুধা পেলে বাদাম, কাজু আর কিসমিস একসাথে মিশিয়ে একটি শুকনো ফল মিশ্রণ বানিয়ে নিতে পারেন।

এটি খুবই স্বাস্থ্যকর একটি স্ন্যাক্স।দুধ বা স্মুদির সাথে কিসমিস মিশিয়ে নিলে তা আরও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। এক গ্লাস দুধে এক চামচ কিসমিস ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন। ফল দিয়ে স্মুদি বানানোর সময় এক চামচ কিসমিস মিশিয়ে নিন, প্রাকৃতিক মিষ্টি হয়ে যাবে।সালাদে কিসমিস দিয়ে মজা অন্যরকম। ফল বা সবজির সালাদের উপর এক চিমটি কিসমিস ছিটিয়ে দিলে সালাদ কাটছাট হয়ে যায়।বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য কিসমিস দারুণ একটি উপাদান। দুধ-ভাতের সাথে কিসমিস মিশিয়ে দিলে বাচ্চারা আনন্দে খেয়ে নেয়। সুজি বা সেমাইয়ের হালুয়ায় কিসমিস না পড়লে যেন স্বাদই আসে না ।রাতের খাবারে পরোটা বা রুটির সাথে কিসমিস খেতে পারেন।

গরম পরোটার উপর একপাশে কিসমিস ছড়িয়ে দিয়ে ভাজিয়ে নিন, স্বাদ অনন্য হবে।মিষ্টি বানানোর সময় চিনির বদলে কিসমিস ব্যবহার করতে পারেন। কিসমিস ব্লেন্ড করে পেস্ট বানিয়ে নিন, তারপর তা পায়েস বা হালুয়ায় মিষ্টি হিসেবে ব্যবহার করুন।রাতে এক মুঠো কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে এই কিসমিসগুলো খেয়ে নিন, সেই পানি পান করুন। এটি হজমের জন্য খুবই ভালো।এই সহজ উপায়গুলোতে কিসমিসকে আপনার প্রতিদিনের খাবারের অংশ করে নিন। স্বাদ আর স্বাস্থ্য দুটোই পাবেন। শুধু মনে রাখবেন, পরিমাণের দিকে নজর রাখবেন, বেশি হলে আবার সমস্যা হতে পারে।

কিসমিস খাওয়ার সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও সর্তকতা

প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত ,কিসমিস খাওয়ার অনেক ভালো দিক থাকলেও, যেমন সব জিনিসেরই একটা না একটা খারাপ দিক থাকে, কিসমিসেরও কিছু সমস্যা আছে। আপনি যদি বেশি পরিমাণে কিসমিস খান, তাহলে নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ওজন বেড়ে যাওয়া। কিসমিসে ক্যালোরির পরিমাণ অনেক বেশি। আপনি যদি দিনে অনেক বেশি কিসমিস খেতে থাকেন, আর শরীরে সেই অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ না হয়, তাহলে ধীরে ধীরে আপনার ওজন বাড়তে শুরু করবে। অনেক মানুষ মনে করেন কিসমিস একটি শুকনো ফল তাই এটি ওজন বাড়ায় না, কিন্তু এই ধারণা একদম ভুল।যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য কিসমিস বেশি পরিমাণে খাওয়া একদমই ঠিক নয়। 

কিসমিসে প্রাকৃতিক চিনি অনেক বেশি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করেই বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিসের রোগীদের খুব অল্প পরিমাণে কিসমিস খাওয়া উচিত, আর অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।হঠাৎ করে অনেক বেশি কিসমিস খেলে পেটেরও সমস্যা হতে পারে। কিসমিসে যে আঁশ থাকে, তা হজম করতে গিয়ে পেট ফাঁপা, গ্যাস হওয়া,পেট ব্যথা পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি দুর্বল, তাদের জন্য এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়।দাঁতের জন্যও কিসমিস বেশি ভালো নয়। কিসমিসের চিনি দাঁতের সাথে লেগে থাকলে, তা থেকে দাঁতের ক্ষয় শুরু হতে পারে। কিসমিস খাওয়ার পর ভালো করে কুলি করা উচিত, সম্ভব হলে দাঁত ব্রাশ করলে।

অনেক সময় বাজারে বিক্রি হওয়া কিসমিসে বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে প্রক্রিয়া করা হয়, যাতে এটি দেখতে সুন্দর আর তাজা লাগে। এই রাসায়নিক শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই কিসমিস কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন এটি প্রাকৃতিকভাবে শুকানো হয়। কেনার আগে ভালো করে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি।যাদের কোনো বিশেষ ধরনের এলার্জি আছে, তাদেরও কিসমিস খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া উচিত। কারো কারো ক্ষেত্রে কিসমিস খেলে ত্বকে চুলকানি বা র্যাশ দেখা দিতে পারে।ছোট বাচ্চাদের কিসমিস খাওয়ানোর সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। 

গোটা কিসমিস বাচ্চাদের শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে, যা খুবই বিপজ্জনক। বাচ্চাদের কিসমিস খাওয়ানোর আগে তা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন, বা ভিজিয়ে নরম করে দিন।সবশেষে বলতে চাই, পরিমিত পরিমাণে কিসমিস খেলে এর থেকে অনেক উপকার পাওয়া যায়। কিন্তু এই পরিমাণের বেশি হয়ে গেলেই নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। তাই প্রতিদিন এক টেবিল চামচের বেশি কিসমিস না খাওয়াই ভালো। আর যদি আপনার কোনো বিশেষ রোগ বা শারীরিক সমস্যা থেকে থাকে, তবে কিসমিস খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

গর্ভবতী নারী শিশু ও ডায়াবেটিস রোগীর কিসমিস খাওয়ার নিয়ম

গর্ভবতী নারীদের জন্য কিসমিস খাওয়ার নিয়ম:
গর্ভাবস্থায় কিসমিস একটি উপকারী খাবার হতে পারে, কিন্তু সতর্কতার সাথে খেতে হবে। গর্ভবতী নারীদের জন্য কিসমিস খাওয়ার কিছু নির্দেশিকা হলো।প্রথমত,পরিমাণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। দিনে মাত্র এক টেবিল চামচ বা বিশ থেকে ত্রিশ গ্রামের বেশি কিসমিস খাওয়া উচিত নয়। এই পরিমাণ থেকে তারা প্রয়োজনীয় আয়রন ও ক্যালসিয়াম পাবেন, যা গর্ভকালীন সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বেশি খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। বাজারে যে কিসমিস পাওয়া যায়, তাতে ধুলাবালি ও রাসায়নিকের অংশ থাকতে পারে।

 কিসমিস ভিজিয়ে রেখে খাওয়া আরও ভালো। রাতে এক মুঠো কিসমিস পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি সহ খেতে পারেন। এটি হজমে সহায়ক হবে।যদি গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকে, তবে কিসমিস খাওয়া নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। এমন ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কিসমিস না খাওয়াই ভালো। সাধারণভাবে গর্ভবতী নারীদের কিসমিস খাওয়ার আগে নিজের ডাক্তারের সাথে একবার পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।শিশুদের জন্য কিসমিস খাওয়ার নিয়মঃশিশুদের জন্য কিসমিস পুষ্টিকর হলেও কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে।ছোট শিশুদের গোটা কিসমিস খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। এটি শিশুর শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে।

এবং শ্বাস বন্ধ হওয়ার মতো বিপদ ঘটাতে পারে। শিশুকে কিসমিস খাওয়ানোর আগে তা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন, কিংবা ভিজিয়ে নরম করে দিন।বাচ্চাদের জন্য কিসমিসের পরিমাণও সীমিত রাখতে হবে। এক থেকে তিন বছর বয়সী শিশুর জন্য দিনে পাঁচ থেকে সাত গ্রাম বা এক চা চামচের এক চতুর্থাংশ পরিমাণই যথেষ্ট। চার থেকে আট বছর বয়সী শিশুর জন্য এক চা চামচ পরিমাণ কিসমিস দেওয়া যেতে পারে।কিসমিস খাওয়ার পর শিশুর দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। কিসমিসের চিনি দাঁতে লেগে থাকলে তা ক্ষয়ের কারণ হতে পারে। শিশুকে কিসমিস খাওয়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এটিকে অন্যান্য খাবারের সাথে মিশিয়ে দেওয়া, যেমন দই বা সুজির সাথে মিশিয়ে।
প্রতিদিন -কতটুকু- কিসমিস -খাওয়া -উচিত
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কিসমিস খাওয়ার নিয়ম:
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কিসমিস খাওয়া নিয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।ডায়াবেটিস রোগীদের দিনে দশ গ্রাম বা এক চা চামচের সমান কিসমিসই যথেষ্ট। এই অল্প পরিমাণেও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, তাই এটি খাওয়ার পর শর্করা মাপতে ভুলবেন না।কিসমিস একবারে না খেয়ে ভাগ করে খাওয়া ভালো। যেমন সকালে আধা চা চামচ এবং বিকেলে আধা চা চামচ খেতে পারেন। করলে রক্তে শর্করা হঠাৎ করে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

কিসমিস খাওয়ার সময় অন্য কোনো মিষ্টি জিনিস এড়িয়ে চলুন। যদি কিসমিস খান, তবে সেই দিন অন্য কোনো মিষ্টি ফল বা মিষ্টি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ডায়াবেটিস রোগীরা কিসমিস খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন। প্রতিটি মানুষের শরীরের অবস্থা আলাদা, তাই ডাক্তারই ভালো বলতে পারবেন আপনার জন্য কিসমিস খাওয়া কিনা।সবক্ষেত্রেই মনে রাখবেন, কিসমিস একটি পুষ্টিকর খাবার,কিন্তু চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো বিশেষ স্বাস্থ্য অবস্থায় কিসমিস খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কেন কিসমিস ভিজিয়ে খাবেন ?একটি জনপ্রিয় বিশ্বাসের পেছনে বিজ্ঞান

কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার প্রচলন আমাদের সমাজে অনেক পুরনো। দাদী-নানীদের কাছ থেকে আমরা প্রায়ই শুনে আসছি যে ভিজিয়ে রাখা কিসমিস খাওয়া বেশি উপকারী। এই বিশ্বাসের পেছনে আসলে শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে।প্রথমত, ভিজিয়ে রাখলে কিসমিস নরম হয়ে যায়। শুকনো কিসমিসের চেয়ে নরম কিসমিস হজম করা অনেক সহজ। যখন আমরা শুকনো কিসমিস খাই, আমাদের পাকস্থলীকে এটি হজম করতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু ভিজিয়ে রাখলে কিসমিসের আঁশ ভাবে ভেঙে যায়, যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি দুর্বল, তাদের জন্য ভিজানো কিসমিস অনেক বেশি উপকারী।

দ্বিতীয়ত, ভিজিয়ে রাখলে কিসমিসের পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরে শোষিত হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ভিজিয়ে রাখার ফলে কিসমিসের ভিটামিন ও খনিজ উপাদানগুলো আমাদের দেহে আরও ভালোভাবে গ্রহণ করা যায়। এটি আমাদের শরীরের জন্য বেশি কার্যকরী হয়ে ওঠে।তৃতীয়ত, ভিজানো কিসমিস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে করে। শুকনো কিসমিস খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, কিন্তু ভিজিয়ে রাখলে এই প্রক্রিয়া ধীরগতি হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভিজানো কিসমিস নিরাপদ চতুর্থত, ভিজিয়ে রাখা কিসমিস শরীরে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

কিসমিসে থাকা পানি শরীরের জন্য উপকারী, বিশেষ করে গরমের দিনে যখন শরীর থেকে বেশি পানি বেরিয়ে যায়।পঞ্চমত, ভিজিয়ে রাখলে কিসমিসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কার্যক্ষমতা বাড়তে পারে। কিছু গবেষণা অনুসারে, ভিজিয়ে রাখার পর কিসমিসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানগুলো আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা আমাদের শরীরের ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বেশি সাহায্য করে কিসমিস ভিজিয়ে রাখার সঠিক পদ্ধতি।
রাতে এক মুঠো কিসমিস পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে এই কিসমিসগুলো খেয়ে নিন, এবং সেই পানি পান করুন। এই পদ্ধতিতে কিসমিসের সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ভিজিয়ে রাখা কিসমিস বেশি দিন রাখা যায় না। ভিজানোর পর ঘণ্টার মধ্যে এটি খেয়ে ফেলা উচিত, নাহলে এতে জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে।এই সমস্ত বৈজ্ঞানিক কারণেই কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার এই প্রথা জেনারেশন ধরে চলে আসছে এবং আধুনিক বিজ্ঞানও এর উপকারিতা স্বীকার করে। তাই যদি আপনি কিসমিসের সর্বোচ্চ উপকার পেতে চান, তবে এটি ভিজিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

কিসমিসের প্রকারভেদ কোনটি আপনার জন্য?

বাজারে সাধারণত আমরা তিন ধরনের কিসমিস দেখতে পাই। প্রতিটিরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং গুণাগুণ রয়েছে। আপনার জন্য কোনটি সবচেয়ে ভালো হবে, তা নির্ভর করছে আপনার স্বাদের পছন্দ এবং স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তার উপর।প্রথম ধরনটি হলো সুলতানা বা গোল্ডেন কিসমিস। এই কিসমিসটি দেখতে হালকা সোনালি-বাদামি রঙের হয় এবং এটি সাধারণত সবুজ আঙ্গুর থেকে তৈরি করা হয়। এর স্বাদ অন্য ধরনের কিসমিসের তুলনায় কিছুটা হালকা ও মিষ্টি হয়। যারা খুব মিষ্টি স্বাদ পছন্দ করেন না, তাদের জন্য এই সুলতানা কিসমিসটি আদর্শ হতে পারে। এটি সালাদ, কেক বা হালকা রান্নায় ব্যবহারের জন্য বেশ উপযোগী।দ্বিতীয় ধরনটি হলো কালো কিসমিস বা মুনাকা।

এই কিসমিসটি গাঢ় রঙের আঙ্গুর থেকে তৈরি হয় বলে এর রং অনেকটা কালচে-বাদামি হয়। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই কালো কিসমিসে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ অন্যান্য কিসমিসের তুলনায়  বেশি থাকে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। যারা বেশি পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গ্রহণ করতে চান, তাদের জন্য এই কালো কিসমিসটি ভালো বিকল্প হতে পারে।তৃতীয় ধরনটি হলো কারেন্ট বা জ্যান্ট কিসমিস। এই কিসমিসটি আকারে বেশ ছোট হয় এবং এর স্বাদ টক-মিষ্টি ধরনের হয়। এটি সাধারণত বেকিং কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়।

কেক, কুকিজ বা মাফিন বানানোর সময় এই কারেন্ট কিসমিস ব্যবহার করলে দারুণ স্বাদ পাওয়া যায়। যারা রান্না বা বেকিং করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই ধরনের কিসমিসটি বেশি উপযোগী।আপনার জন্য কোন কিসমিসটি সবচেয়ে ভালো হবে, তা বেছে নেওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে পারেন। যদি আপনি শুধু স্বাদের কথা করেন, তাহলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। কিন্তু যদি স্বাস্থ্যের দিকটি প্রাধান্য দেন, তাহলে কালো কিসমিসটি বেছে নিতে পারেন, কারণ এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ কিছুটা বেশি।একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি যেই ধরনের কিসমিসই কিনুন না কেন, খেয়াল রাখবেন যেন তা প্রাকৃতিকভাবে শুকানো হয়।

কিছু দোকানে কিসমিসকে আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য তেলে ভাজা বা চিনির সিরাপ-এ ডুবিয়ে রাখা হয়। এমন কিসমিস কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো। সাধারণভাবে শুকনো এবং প্রাকৃতিক রঙের কিসমিসই সবচেয়ে ভালো।আপনার যদি বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, যেমন ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা, তাহলে কিসমিস বেছে নেওয়ার সময় ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, প্রতিটি ধরনের কিসমিসই পুষ্টিগুণে ভরপুর, কিন্তু সঠিক পরিমাণে খাওয়াই হলো আসল কথা।

প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত - উপসংহার

প্রকৃতির দেওয়া অসাধারণ একটি উপহার হলো কিসমিস। এই ছোট্ট শুকনো ফলটি দেখতে সাধারণ মনে হলেও এর গুণাগুণ অনেক বড়। কিসমিস আসে আঙ্গুর থেকে। আঙ্গুর শুকিয়ে যখন কিসমিস তৈরি হয়, তখন এর পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যায়। এটি একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি হওয়ায় চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কিসমিসে আছে অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এতে রয়েছে আয়রন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং বিভিন্ন ভিটামিন। এই সব পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কিসমিসের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এটি দ্রুত শক্তি দেয়। যখনই দুর্বল লাগে বা ক্লান্তি আসে, তখন এক মুঠো কিসমিস খেলে সঙ্গে সঙ্গে শক্তি পাওয়া যায়।

হজমশক্তি ভালো রাখতে কিসমিসের ভূমিকা অনেক। এতে থাকা আঁশ হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, তাদের জন্য কিসমিস খুবই উপকারী। রাতে কিসমিস ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে হজমশক্তি ভালো হয়।রক্তশূন্যতা রোধে কিসমিস দারুণ কাজ করে। এতে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়। মহিলাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও কিসমিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত রাখে।কিসমিস খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানা জরুরি। বেশি খেলে ক্ষতিও হতে পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে এক টেবিল চামচ কিসমিস যথেষ্ট। ডায়াবেটিস রোগীদের কম খাওয়া উচিত।

শিশুদের জন্য এক চা চামচই যথেষ্ট। কিসমিস সরাসরি খাওয়া যায়, আবার দই বা ওটসের সাথেও মিশিয়ে খাওয়া যায়।কিসমিসের বিভিন্ন প্রকার আছে। সোনালি কিসমিস, কালো কিসমিস। কালো কিসমিসে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বেশি থাকে। কেনার সময় প্রাকৃতিক কিসমিস কিনতে হবে, তেলে ভাজা বা চিনি মেশানো কিসমিস এড়িয়ে চলতে হবে।মনে রাখতে হবে, পরিমিত পরিমাণে কিসমিস খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। কিন্তু বেশি খেলে ওজন বাড়া বা রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই নিয়ম মেনে কিসমিস খাওয়াই উপায়।কিসমিস প্রকৃতির দেওয়া একটি সুন্দর উপহার। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিকর। সঠিক নিয়মে কিসমিস খেলে এটি আমাদের দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সফটনড়িতে নীতিমালা ; মেনে ;কমেন্ট করুন ;প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url