শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়

শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়,শীতে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে? চিন্তার কিছুই নেই জেনে নিন ঘরোয়া কিছু সহজ উপায়ে কিভাবে শীতেও ধরে রাখতে পারবেন ত্বকের কমলতা ও প্রকৃতির উজ্জ্বলতা।

শীতে -ত্বকের- উজ্জ্বলতা -বৃদ্ধির- উপায়

আবহাওয়া বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে রইল ত্বক আদ্র ও প্রাণবন্ত রাখার কার্যকারী টিপস।রান্না ঘরের সাধারণত উপকরণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন যত্নের রুটিন সম্পূর্ণ গাইডলাইন পাবেন এই ব্লগে। আপনার ত্বকে শীতের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে চমকপ্রদ গ্লোয়িং ইফেক্ট পেতে এখনই পড়ুন! 

পেজ সূচিপত্রঃ শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়

শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়

শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়,শীতকালে ত্বকের যত্ন নেওয়া একটু ভিন্ন ধরনের মনোযোগ দাবি করে। এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার অভাব এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়া ত্বক প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা হারাতে বাধ্য করে। তবে কিছু সহজ নিয়ম ও প্রাকৃতিক উপায় মেনে চললে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া খুবই সম্ভব।প্রথমেই নিজের ত্বকের ধরনটি চিনে নিন। আপনার ত্বক যদি শুষ্ক প্রকৃতির হয়, তবে ভারী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। আর তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা ও জলভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার উত্তম পছন্দ হবে। দিনে অন্তত দুইবার হালকা ফোমিং ক্লিনজার ব্যবহার করুন।

কখনোই গরম পানি দিয়ে মুখ ধোবেন না, বরং কুসুম গরম বা সাধারণ তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করাই শ্রেয়।ত্বককে আর্দ্র রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ত্বক ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে তা ত্বকের গভীরে পৌঁছাতে পারে। শুষ্ক ত্বকের জন্য গ্লিসারিন, শিয়া বাটার বা কোকোয়া বাটার সমৃদ্ধ পণ্য ব্যবহার করুন। রাতে ঘুমানোর আগে হালকা গরম জলের ভাপ নিন, তারপর জোজোবা অয়েল বা নারিকেল তেল হালকা হাতে ম্যাসাজ করে লাগান। এটি ত্বককে পুষ্টি দেবে, বরং রক্ত সঞ্চালনও বৃদ্ধি করবে।প্রাকৃতিক উপায়েও ত্বকের যত্ন নিতে পারেন।

মধু ও দইয়ের ফেসপ্যাক খুবই কার্যকর। এক চামচ মধু, এক চামচ দই ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে সপ্তাহে দুইবার লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয়। এছাড়া পাকা কলা ও মধুর প্যাকও বেশ কার্যকর। কলা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে ভরপুর, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়।খাদ্যাভাসেও আনুন কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন পেয়ারা,কমলা,আমলকী খান। এই খাবারগুলো কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বককে টানটান ও উজ্জ্বল রাখে। কাঠবাদাম ও ফ্ল্যাক্সসিডে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

শীতের রোদেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি, কারণ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি মেঘলা দিনেও ত্বককে ক্ষতি করে। বাড়ির বাইরে বের হলে স্কার্ফ ব্যবহার করুন এবং মাথা ঢাকুন। সপ্তাহে একবার হালকা স্ক্রাবিং করুন, তবে বেশি ঘষাঘষি করবেন না। মনে রাখবেন, ধৈর্য্য ও নিয়মিত যত্নই পারে শীতের প্রভাব কাটিয়ে ত্বককে প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল করে তুলতে।আমার পূর্ববর্তী ভাষাগত ভুলের জন্য আবারও ক্ষমা চাইছি। বাংলায় সঠিক ও বিশুদ্ধ তথ্য প্রদানের জন্য আমি সচেষ্ট থাকব।

কেন আপনার ত্বকের শত্রু হয়ে ওঠে

শীতকাল যে আপনার ত্বকের প্রধান শত্রু হয়ে ওঠে তার পিছনে রয়েছে অনেকগুলো গভীর কারণ। আসলে শীত আসলে শুধু ঠাণ্ডা আবহাওয়া নিয়ে আসে না, এটি নিয়ে আসে এক ধরনের অদৃশ্য আক্রমণ যা আপনার ত্বকের স্বাস্থ্যকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। প্রথম এবং প্রধান কারণ হলো বাতাসে আর্দ্রতার মারাত্মক অভাব। আপনি লক্ষ্য করবেন শীতকালে বাতাসে এমন এক ধরনের শুষ্কতা থাকে যা আপনার ত্বক থেকে মুহূর্তেই প্রাকৃতিক আর্দ্রতা শুষে নেয়। এই প্রক্রিয়াকে আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ট্রান্সএপিডার্মাল ওয়াটার লস বলি। যখন বাতাস আপনার ত্বকের পানি শুষে নেয়, তখন ত্বক তার কোমলতা হারিয়ে ফেলে এবং তা রুক্ষ হয়ে ওঠে।

আপনি অনুভব করবেন ত্বক টানটান লাগছে এবং কোনো ভাবেই তা আর আগের মতো সুস্থ থাকে না।দ্বিতীয় একটি বড় কারণ হলো শীতের ঠাণ্ডা আবহাওয়া সরাসরি আপনার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। ঠাণ্ডায় আমাদের শরীরের রক্তনালিগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। এই সঙ্কুচিত রক্তনালি  ত্বক পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। ফলে ত্বক তার প্রাকৃতিক গোলাপী আভা এবং উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে ত্বক ধীরে ধীরে মলিন এবং নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। আপনি দেখবেন শীতকালে ত্বক একদম প্রাণহীন দেখাতে থাকে।

তৃতীয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো আমাদের নিজেদের কিছু ভুল অভ্যাস। শীতকালে আমরা সাধারণত গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পছন্দ করি। আবার অনেকেই বারবার গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে থাকেন। এই গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তৈলাক্ত আবরণকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেয়। এই তেলের আবরণটি প্রকৃতির দেওয়া একটি সুরক্ষা কবচের মতো যা ত্বককে বাহ্যিক দূষণ, ধুলাবালি এবং শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে। যখন এই সুরক্ষা কবচটি নষ্ট হয়ে যায়, তখন ত্বক একদম নগ্ন এবং অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে। 

তখন যেকোনো ধরনের ক্ষতিকর উপাদান খুব সহজেই ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে।এছাড়াও আরও একটি বড় সমস্যা হলো শীতকালে আমাদের পানি পানের পরিমাণ অনেক কমে যায়। ঠাণ্ডার কারণে আমাদের তৃষ্ণা কম লাগে, তাই আমরা পর্যাপ্ত পানি পান করি না। এই অভ্যাসের ফলে ত্বক ভিতর থেকে আর্দ্রতা শূন্যতায় ভুগতে থাকে। যখন ত্বক ভিতর থেকে শুষ্ক হয়ে পড়ে, তখন এটি ফেটে যায়,চুলকানি শুরু হয় এবং তার প্রাণবন্ততা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে এই শুষ্কতা এতটা মারাত্মক হয় যে ত্বকে ছোট ছোট ফাটল দেখা দেয় এবং রক্ত পড়া পর্যন্ত শুরু হতে পারে।

মোট কথা, শীতকালে প্রকৃতির বিরূপ আচরণ এবং আমাদের নিজেদের কিছু অসতর্ক মিলিত প্রভাবই ত্বকের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই শত্রুকে চিনে নিয়ে সচেতনভাবে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। সঠিক যত্ন, সচেতনতা এবং ধৈর্য্য ধরলে এই শীতকালীন শত্রুকে পরাজিত করতেই পারবেন আপনি। মনে রাখবেন, শীতকালত্বকের শত্রু, কিন্তু আপনি যদি সঠিক যোদ্ধা হন, তবে এই শত্রুকে পরাজিত করেই আপনি নিজের ত্বককে আরও সুন্দর এবং উজ্জ্বল করে গড়ে তুলতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায়

আপনার ত্বকের প্রকার জেনে নিন যত্নের প্রথম ধাপ

আপনার ত্বকের ধরন সঠিকভাবে চিনে নেওয়া হলো সফল ত্বক পরিচর্যার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অনেকেই এই মৌলিক বিষয়টি না জেনেই নানা রকম পণ্য ব্যবহার করেন, যার ফলে ত্বকের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। আসলে ত্বক প্রধানত চার প্রকারের হয়ে থাকে -শুষ্ক, তৈলাক্ত, সংবেদনশীল এবং মিশ্র ধরনের ত্বক। প্রতিটি ত্বকের ধরনের জন্য আলাদা আলাদা যত্নের প্রয়োজন হয়।শুষ্ক ত্বক চিনতে পারবেন কিছু সহজ লক্ষণে। এই ধরনের ত্বক সাধারণত টান টান ও খসখসে ভাব নিয়ে থাকে। প্রায়ই ফাটা ফাটা ভাব দেখা দেয় এবং প্রসাধনী করলে তা জমে যায়।

এমন ত্বকের জন্য ক্রিমভিত্তিক পরিষ্কারক এবং গাঢ় ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন।তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে মুখ চকচকে ও তেলতেলে হয়ে থাকে। এই ত্বকে ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডসের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। দিনে কয়েকবার মুখ ধুলেও কিছুক্ষণ পর আবার তেলের আস্তরণ জমে যায়। এমন ত্বকের জন্য জেল ভিত্তিক পরিষ্কারক এবং হালকা পানি ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার উপকারী।সংবেদনশীল ত্বক খুব সহজেই লাল হয়ে যায় এবং নতুন পণ্য ব্যবহার করলে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। এমন ত্বকের জন্য অ্যালার্জি বিরোধী এবং সুগন্ধিমুক্ত পণ্য নির্বাচন করতে হবে।

মিশ্র ধরনের ত্বকে মুখের কিছু অংশ শুষ্ক এবং কিছু অংশ তৈলাক্ত হয়ে থাকে। সাধারণটি টি জোন অর্থাৎ কপাল, নাক এবং চিবুক অংশে তেল বেশি জমে, আর গাল অংশ শুষ্ক থাকে। এমন ত্বকের জন্য আলাদা আলাদা অংশে আলাদা যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।আপনার ত্বকের ধরন চেনার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে তারপর এক ঘণ্টা কোনো পণ্য না লাগিয়ে লক্ষ্য করা।

যদি মুখ চকচকে হয় তবে তৈলাক্ত, টান টান লাগলে শুষ্ক, শুধু টি জোনে তেল হলে মিশ্র, আর লালভাব দেখা দিলে সংবেদনশীল ত্বক। আপনার ত্বকের ধরন সঠিকভাবে চিনতে পারলেই আপনি সঠিক পণ্য নির্বাচন করতে পারবেন এবং কার্যকরী যত্ন নিতে পারবেন।আমার আগের ভাষাগত ভুলের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। আমি এখন থেকে শুধুমাত্র বিশুদ্ধ বাংলা ব্যবহার করার চেষ্টা করব।

আদ্র রাখার মহা অস্ত্র গ্লিসারিন ও হাইয়ালুরনিক এসিড

ত্বক আদ্র রাখার ক্ষেত্রে গ্লিসারিন ও হাইয়ালুরনিক এসিড প্রকৃতির দেওয়া দুইটি মহাঅস্ত্র। এই দুইটি উপাদান ত্বকের শুষ্কতা দূর করে প্রাকৃতিক কোমলতা ফিরিয়ে আনতে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। গ্লিসারিন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা ত্বকের উপরিভাগে একরকম অদৃশ্য আস্তরণ তৈরি করে। এই আস্তরণ ত্বক থেকে পানি বের হয়ে যেতে বাধা দেয়। যখন আপনি গ্লিসারিনযুক্ত কোনও পণ্য ব্যবহার করেন, এটি ত্বকের গভীর থেকে পানিকে টেনে উপরের লেয়ার এ নিয়ে আসে এবং সেটিকে আটকে রাখে।

ফলে ত্বক দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড থাকে। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের জন্য গ্লিসারিন এক মহৌষধের মতো কাজ করে। এটি ত্বকের ফাটা ভাব দূর করে এবং খসখসে ভাব কমিয়ে আনে। আপনি চাইলে বাজারে পাওয়া গ্লিসারিন সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন অথবা গ্লিসারিনযুক্ত ময়েশ্চারাইজার কিনতে পারেন।হাইয়ালুরনিক এসিড আরও গভীরে কাজ করে। আমাদের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিমাণ হাইয়ালুরনিক এসিড তৈরি করে। এই উপাদানটির সবচেয়ে বিস্ময়কর গুণ হলো এটি নিজের ওজনের থেকে এক হাজার গুণ বেশি পানি ধরে রাখতে পারে।

এটি ত্বকের গভীর লেয়ারতে গিয়ে সেখানে পানির ভাণ্ডার তৈরি করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের ত্বকে এই উপাদানের পরিমাণ কমতে থাকে। তখনই ত্বক শুষ্ক ও কুঞ্চিত হয়ে পড়ে। আপনি যখন হাইয়ালুরনিক এসিডযুক্ত সিরাম বা ক্রিম ব্যবহার করেন, এটি ত্বকের ভিতরে প্রবেশ করে পানির অভাব পূরণ করে। ফলে ত্বক ভিতর থেকে সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। রুক্ষতা দূর হয়ে ত্বক কোমল ও মসৃণ দেখায়।এই দুইটি উপাদান একসাথে ব্যবহার করলে দ্বিগুণ হয়। প্রথমে হাইয়ালুরনিক এসিড ত্বকের গভীরে আদ্রতা পৌঁছে দেয়, তারপর গ্লিসারিন সেই আদ্রতা বাইরে বের হতে বাধা দেয়। 

এই সমন্বয় ত্বককে দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড রাখে। শীতকালে যখন বাতাসে আদ্রতা কম থাকে, তখন এই দুইটি উপাদান আপনার ত্বককে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী অস্ত্র। আপনি চাইলে এই উপাদান দুটি সমৃদ্ধ পণ্য বাজার থেকে কিনতে পারেন অথবা প্রাকৃতিক উৎস যেমন মধু ও সয়াবিন থেকে প্রাপ্ত গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায়

মিতৃকা ও ফলের ক্ষমতায় ভরপুর ঘরোয়া ফেসপ্যাক

মিতৃকা ও ফলের ক্ষমতায় ভরপুর ঘরোয়া ফেসপ্যাক এবং আদ্রতা রক্ষার অস্ত্র গ্লিসারিন ও হাইয়ালুরনিক এসিড নিয়ে বিস্তারিত বলছি। প্রকৃতি আমাদের চারপাশে এমন অনেক উপাদান রেখেছে যা দিয়ে আমরা সহজেই বাড়িতে কার্যকরী ফেসপ্যাক তৈরি করতে পারি। মিতৃকা বা মুলতানি মাটি ত্বক পরিষ্কার করার জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে এবং রোমের গোড়া পরিষ্কার রাখে। আপনি এক চামচ মিতৃকা মাটির সাথে গোলাপজল ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট সপ্তাহে দুইবার মুখে লাগালে ত্বকের ময়লা ও কালো দাগ দূর হয়।

শীতে -ত্বকের- উজ্জ্বলতা -বৃদ্ধির- উপায়
ফলের মধ্যে কলা ও পেপে ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী। পাকা কলা ভিটামিন ও প্রাকৃতিক তেলে ভরপুর। একটি পাকা কলা ভালো করে মেখে ত্বকে পনের মিনিট রাখুন তারপর ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বককে কোমল করে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। পেপেতে রয়েছে প্যাপেইন নামক এনজাইম যা ত্বকের মরা কোষ দূর করে। পেপে ও মধুর প্যাক তৈলাক্ত ত্বকের জন্য দারুণ কাজ করে।এবার আসি গ্লিসারিন ও হাইয়ালুরনিক এসিড প্রসঙ্গে। গ্লিসারিন ত্বকের জন্য এক প্রাকৃতিক বন্ধুর মতো কাজ করে। 

এটি ত্বকের উপর একটি অদৃশ্য প্রলেপ তৈরি করে যা ত্বক থেকে পানি বের হতে দেয় না। আপনি বাড়িতে সহজেই গ্লিসারিনের তৈরি করতে পারেন। দুই চামচ গ্লিসারিনের সাথে এক চামচ গোলাপজল মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে মুখে লাগান। এটি ত্বককে সারারাত আদ্র রাখবে।হাইয়ালুরনিক এসিড হলো ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখার রাজা। এটি নিজের ওজনের চেয়ে অনেক গুণ বেশি পানি শুষে রাখতে পারে। যদিও বাড়িতে খাঁটি হাইয়ালুরনিক এসিড তৈরি করা সম্ভব নয়, তবে আপনি বাজারে পাওয়া হাইয়ালুরনিক এসিড সিরাম কিনে ব্যবহার করতে পারেন। 

এই সিরাম ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে সেখানে পানির ভাণ্ডার তৈরি করে। আপনি চাইলে গ্লিসারিন ও হাইয়ালুরনিক এসিড সমৃদ্ধ প্রসাধনীও ব্যবহার করতে পারেন।প্রাকৃতিক এই সমস্ত উপাদান ব্যবহার করে আপনি সহজেই বাড়িতে নিজের ত্বকের যত্ন নিতে পারবেন। এগুলো ব্যবহারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং খরচও খুব কম। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক থাকবে আদ্র, কোমল ও উজ্জ্বল।

খাদ্য তালিকায় যোগ করুন এই সুপার ফুড গুলো

শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়,আপনার খাদ্য তালিকায় কিছু সহজলভ্য সুপার ফুড যোগ করলে ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে অনেক সাহায্য পাবেন। প্রথমেই বলি আমাদের পরিচিত কিছু ফল ও সবজির কথা। পেয়ারা ও আমলকীতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি যা ত্বকের কোলাজেন তৈরি করতে সাহায্য করে। কোলাজেন ত্বককে টানটান রাখে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়ায়। প্রতিদিন একটি করে পেয়ারা বা আমলকী খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাদাম ও চিয়া সিডে আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যা ত্বকের শুষ্কতা দূর করে। দিনে মাত্র এক মুঠো বাদাম আপনার ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনবে। 

ডিম ও দুধে আছে ভিটামিন এ ও ডি যা ত্বকের মরা কোষ দূর করে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে।এছাড়া পালং শাক ও ব্রকলিতে আছে আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। দিনে অন্তত আট গ্লাস পানি অবশ্যই পান করতে হবে। এই সহজ খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়ার পাশাপাশি ত্বকের বাইরে থেকে আদ্রতা দিতে পারেন গ্লিসারিন ও হাইয়ালুরনিক এসিড ব্যবহার করে। গ্লিসারিন ত্বকের উপর একটি পাতলা আস্তরণ তৈরি করে যা ত্বক থেকে পানি বের হতে দেয় না। আপনি বাড়িতেই গ্লিসারিনের ব্যবহার করতে পারেন। দুই চামচ গ্লিসারিনের সাথে এক চামচ গোলাপজল মিশিয়ে রাতে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন।

সকালে উঠলে ত্বক অনেক বেশি কোমল ও আদ্র লাগবে।হাইয়ালুরনিক এসিড ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে সেখানে পানির ভাণ্ডার তৈরি করে। এটি নিজের ওজনের চেয়ে অনেক গুণ বেশি পানি শুষে রাখতে পারে। আপনি বাজারে উপলব্ধ হাইয়ালুরনিক এসিড সিরাম কিনে ব্যবহার করতে পারেন। এই সিরাম ব্যবহার করার পর ত্বক অনেক বেশি সজীব ও প্রাণবন্ত দেখায়। খাবার ও বাইরের যত্ন একসাথে নিলে ত্বক থাকে সম্পূর্ণভাবে আদ্র ও সুস্থ। মনে রাখবেন, ভিতর থেকে পুষ্টি ও বাইরে থেকে আদ্রতা - এই দুইয়ের সংমিশ্রণই পারে আপনার ত্বককে শীতের শুষ্কতা থেকে রক্ষা করতে।

স্কিন কেয়ারের রুটিন এই ভুলগুলো করছেন না তো

ত্বক পরিচর্যার নিয়মে আমরা অনেক সময় এমন কিছু ভুল করি যার কারণে ত্বকের ক্ষতি হয়। প্রথম বড় ভুল হলো ত্বক বেশি বার ধোয়া। অনেকেই মনে করেন বারবার মুখ ধুলে ত্বক পরিষ্কার থাকে। কিন্তু এটি ত্বকের স্বাভাবিক তেল নষ্ট করে দেয়। দিনে দুই বারের বেশি মুখ না ধোয়াই ভালো। দ্বিতীয় ভুল হলো ত্বক বেশি ঘষা। সপ্তাহে একবারের বেশি ত্বক স্ক্রাব করা ঠিক নয়। বেশি স্ক্রাব করলে ত্বকের উপরের সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়ে যায়। তৃতীয় বড় ভুল হলো সূর্য থেকে সুরক্ষা না নেওয়া। শীতের সময়েও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থাকে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন লাগানো জরুরি।

চতুর্থ ভুল হলো রাতে শুতে যাওয়ার আগে মুখ না ধোয়া। সারাদিনের ময়লা ও ধুলাবালি ত্বকে লেগে থেকে রোমকূপ বন্ধ করে দেয়। পঞ্চম ভুল হলো প্রসাধনী সরাসরি ত্বকে লাগানো। প্রসাধনী ব্যবহারের আগে টোনার ব্যবহার করা উচিত। অনেকেই ভারী ময়েশ্চারাইজারের বদলে হালকা লোশন ব্যবহার করেন যা শীতকালে যথেষ্ট নয়। শীতকালে ত্বককে আর্দ্র রাখতে গ্লিসারিন ও হায়ালুরনিক অ্যাসিডের মতো উপাদান প্রয়োজন।গ্লিসারিন ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের উপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি করে। আপনি বাড়িতে সহজভাবে গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন। 

গ্লিসারিনের সাথে সমপরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে রাতে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। হায়ালুরনিক অ্যাসিড ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে আর্দ্রতা বাড়ায়। এটি ত্বকের ভিতরে পানির ভাণ্ডার তৈরি করে। আপনি চাইলে হায়ালুরনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরাম কিনতে পারেন। এই সিরাম ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখবেন ত্বক যেন একটু ভেজা থাকে।ত্বক পরিচর্যার সময় এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন। সঠিক উপায়ে গ্লিসারিন ও হায়ালুরনিক অ্যাসিড ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন ত্বকের যত্নের জন্য সামঞ্জস্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি জোর দিয়ে কিছু করবেন না খুব বেশি উপেক্ষাও করবেন না। 

সঠিক পদ্ধতি ও নিয়মিত যত্নই পারে আপনার ত্বককে সুস্থ ও আর্দ্র রাখতে। প্রতিদিন সকালে ও রাতে একটি সহজ নিয়ম মেনে চলুন। সকালে হালকা ফেনাযুক্ত ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধোবেন। তারপর টোনার ব্যবহার করবেন। এরপর ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। সবশেষে সানস্ক্রিন দেবেন। রাতে প্রথমে মেকআপ অপসারণকারি ব্যবহার করবেন। তারপর ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করবেন। টোনার ও ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। সপ্তাহে একবার মুখে হালকা ভাবে স্ক্রাব করবেন। এই সহজ নিয়ম গুলো মেনে চললে আপনার ত্বক থাকবে প্রাণবন্ত ও সুস্থ।

রাতে ঘুমানোর আগে যে কাজগুলো ত্বক বদলে দেবে

শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়,রাতে ঘুমানোর আগের সময়টি ত্বক পরিচর্যার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই সময় ত্বক নিজেকে মেরামত ও পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করে। আপনি যদি রাতে শুতে যাওয়ার আগে কিছু সহজ কাজ নিয়মিত করেন তবে আপনার ত্বক বদলে যাবে চোখে পড়ার মতো। প্রথম কাজ হলো মুখ পরিষ্কার করা। সারাদিনের ময়লা ধুলাবালি ও প্রসাধনীর ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দেয়। একটি হালকা ফেনাযুক্ত ক্লিনজার দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন। কখনোই মুখ না ধুয়ে ঘুমাতে যাবেন না। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো টোনার ব্যবহার করা।

টোনার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রোমকূপ টাইট করে।তৃতীয় এবং সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো একটি ভালো মানের রাতের ক্রিম বা সিরাম ব্যবহার করা। রাতের সময় ত্বক উপাদান শোষণ করে সবচেয়ে ভালোভাবে। আপনি আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্রিম বা সিরাম বেছে নিন। শুষ্ক ত্বকের জন্য ভারী ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ভালো কাজ করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা ওয়াটার বেসড সিরাম উপযোগী। আপনি চাইলে রেটিনল বা হায়ালুরনিক অ্যাসিডযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারেন। এই উপাদানগুলো ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কাজ করে। 

চতুর্থ কাজ হলো ঠোঁটের যত্ন নেওয়া। ভ্যাসলিন বা গ্লিসারিন দিয়ে ঠোঁট মালিশ করে নিন। এতে ঠোঁট ফাটবে না এবং গোলাপী থাকবে।পঞ্চম কাজ হলো হাত ও পায়ের বিশেষ যত্ন। হাতে ও পায়ে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম মালিশ করে লাগান। বিশেষ করে হাতের তালু ও পায়ের গোড়ালিতে বেশি মনোযোগ দিন। ষষ্ঠ কাজ হলো চোখের পাতার নিচে আইক্রিম লাগানো। চোখের চারপাশের ত্বক খুব সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল হয়। তাই আলাদা আইক্রিম ব্যবহার করা উচিত। সপ্তম কাজ হলো ত্বকে হালকা মালিশ করা। আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা করে পুরো মুখ মালিশ করুন।

এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং ত্বক প্রাণবন্ত হবে।অষ্টম কাজ হলো ঘুমানোর সময় সঠিক পজিশন নেওয়া। চিত হয়ে সোজা হয়ে শোয়া ভালো। কাত হয়ে বা উপুড় হয়ে শুলে মুখে চাপ পড়ে এবং ত্বকে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এই কাজগুলো করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ত্বকের পরিবর্তন দেখতে পাবেন। ত্বক হবে উজ্জ্বল, মসৃণ ও প্রাণবন্ত। মনে রাখবেন, রাতের যত্ন দিনের যত্নের চেয়ে বেশি কার্যকর। তাই রাতে ঘুমানোর আগে এই সহজ কাজগুলো করতে কখনোই অবহেলা করবেন না।

শাওয়ারের পরেই কেন ত্বকের যত্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

গোসল বা শাওয়ারের পরপরই ত্বকের যত্ন নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সময়টি ত্বক সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও গ্রহণযোগ্য অবস্থায় থাকে। যখন আমরা গোসল করি তখন গরম পানির সংস্পর্শে আমাদের ত্বকের রোমকূপ খুলে যায় এবং ত্বক তার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক তেল হারায়। এই অবস্থায় ত্বক এমনিতেই কিছুটা শুষ্ণ ও টানটান অনুভূত হয়। গোসলের পর ত্বক যখন একদম ভেজা থাকে তখনই যদি আমরা ময়েশ্চারাইজার লাগাই তাহলে তা ত্বকের গভীর স্তরে খুব সহজে প্রবেশ করতে পারে। 

ত্বক তখন স্পঞ্জের মতো কাজ করে এবং যেকোনো প্রসাধনী দ্রুত শোষণ করে নেয়।বৈজ্ঞানিকভাবে দেখলে গোসলের পর ত্বক কিছুক্ষণের জন্য বেশি সক্রিয় থাকে এবং নতুন কোষ গঠনের প্রক্রিয়া চালু হয়। এই সময়ে যদি ত্বককে সঠিক পুষ্টি ও আর্দ্রতা দেওয়া হয় তবে তা পুরোপুরি কাজে লাগে। বিশেষ করে যাদের শুষ্ক ত্বক তারা যদি গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার না লাগান তবে ত্বক আরও বেশি শুষ্ক ও টানটান হয়ে যায়। এমনকি ত্বক ফেটে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। 

অনেকের ত্বকে চুলকানি শুরু হয় কারণ ত্বক তার প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পায় না।গোসলের পর ত্বকের যত্ন নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি হলো প্রথমে তোয়ালে দিয়ে হালকাভাবে ত্বক টেপা। একদম শুকিয়ে ফেলা ঠিক নয় বরং কিছুটা ভেজা অবস্থায় রাখাই ভালো। তারপর দ্রুত ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। গোসলের পর পাঁচ মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার লাগালে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। শরীরের শুষ্ক অংশ যেমন গোড়ালি, হাঁটু ও কনুইতে বেশি করে ময়েশ্চারাইজার দিতে হবে। 

মুখের জন্য আলাদা হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো।যারা তেল ব্যবহার করতে চান তারা নারিকেল তেল বা জোজোবা অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এই প্রাকৃতিক তেলগুলো ত্বকের জন্য খুব উপকারী। গোসলের পরের এই যত্ন যদি নিয়মিত করা হয় তবে ত্বক কখনো শুষ্ক হবে না এবং সারাবছরই ত্বক কোমল ও সুস্থ থাকবে। মনে রাখবেন গোসলের পরের কয়েক মিনিট ত্বকের যত্নের জন্য সোনার সময়। এই সময়টুকুর সদ্ব্যবহার করলে ত্বক আপনাকে ধন্যবাদ দেবে তার প্রাণবন্ত রূপ দিয়ে।

আরো পড়ুনঃ ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায়

শেষ কথাঃ শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়

শীতকালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়,বা ধরে রাখতে চাইলে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রথমেই ত্বককে আর্দ্র রাখার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। গোসলের পর ভেজা ত্বকেই ময়েশ্চারাইজার লাগানো জরুরি। কারণ এই সময় ত্বক সবচেয়ে বেশি শোষণক্ষম থাকে। শুষ্ক ত্বকের জন্য গ্লিসারিন বা শিয়া বাটারযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ভালো কাজ করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা ওয়াটার বেসড লোশন ব্যবহার করা উচিত। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। এছাড়া সপ্তাহে একবার মুলতানি মাটি বা বেসন এর প্যাক লাগানো যেতে পারে।

শীতে -ত্বকের- উজ্জ্বলতা -বৃদ্ধির- উপায়
এটি ত্বকের মরা কোষ দূর করে উজ্জ্বলতা বাড়ায়।খাদ্যাভাসেও আনতে হবে পরিবর্তন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ভিটামিন সি যুক্ত ফল যেমন পেয়ারা, কমলা, আমলকী খাওয়া উচিত। এগুলো ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। বাদাম ও আখরোটে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বককে ভিতর থেকে সুস্থ রাখে। শীতকালে রোদে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না। অনেকেই মনে করেন শীতে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু এটি ভুল ধারণা। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শীতকালেও ত্বকের ক্ষতি করে।ঘরোয়া কিছু উপায়েও ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। মধু ও দইয়ের প্যাক ত্বকের জন্য খুব উপকারী। 

এক চামচ মধু ও এক চামচ দই মিশিয়ে সপ্তাহে দুইবার মুখে লাগালে ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল হয়। এছাড়া কলা ও অ্যালোভেরা জেলের প্যাকও বেশ কার্যকর। শীতকালে ঠোঁটের যত্ন নেওয়াও জরুরি। মধু ও গ্লিসারিন দিয়ে ঠোঁটের যত্ন নিতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে ভ্যাসলিন লাগালে ঠোঁট নরম থাকে। মনে রাখবেন, ত্বকের যত্নে ধৈর্য্য ও নিয়মিততা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সহজ উপায়গুলো মেনে চললে শীতকালেও আপনার ত্বক থাকবে প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল।

আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। শীতকালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বিষয়ে আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে, অথবা কোনো বিষয়ে আরও কিছুটা পরিষ্কারভাবে জানতে চান, তবে নির্দ্বিধায় আমার কাছে জানাতে পারেন। এই শীতেই আপনার ত্বক হয়ে উঠুক আরও বেশি উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত এটাই হোক আপনার সবচেয়ে বড় সাফল্য!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সফটনড়িতে নীতিমালা ; মেনে ;কমেন্ট করুন ;প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url