ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায়
ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায়,শীত হোক বা গরম, ঠোঁট ফাটার যন্ত্রণায় আমরা অনেকেই ভুগি। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কসমেটিক প্রোডাক্টের উপর নির্ভরশীল হওয়া ছাড়াই রয়েছে।
অনেক সহজ ও প্রাকৃতিক ঘরোয়া সমাধান। এই আর্টিকেলে ঠোঁট ফাটার কারণ থেকে শুরু করে দশটি অত্যন্ত কার্যকরী ও প্রাকৃতিক উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যা আপনার ফাটা ঠোঁটকে মসৃণ ও কোমল করে তুলতে সাহায্য করবে।পেজ সূচিপত্রঃ ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায়
- ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায়
- ঠোঁট ফাটার আসল কথা বোঝা জরুরী
- প্রাকৃতিক গ্লিসারিন ও গোলাপজলের মিশ্রণ
- মধুর অমৃত সুধা ও দুধের ক্রিমের প্রলেপ
- নারকেল তেল ও চিনির স্ক্রাব এর কোমল স্পর্শ
- এলোভেরা জেলের শীতল স্পর্শ
- ঘি এর প্রাচীন রূপচর্চা
- সুষম খাদ্য অভ্যাস গড়ে তোলা
- পানির অপরিহার্য ভূমিকা
- শেষ কথাঃঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায়
ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায়
ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায় ,অনেক সময় আমরা লক্ষ্য করি, আমাদের সবার প্রিয় সেই হাসিটা যেন একটু ম্লান হয়ে আসে। কারণ? শুষ্ক, ফাটা ঠোঁট। শীতই হোক বা গরমের ধুলো, এই সমস্যাটা একটা বিরক্তিকর সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু চিন্তার কোন কারণ নেই! আপনার রান্নাঘরেই লুকিয়ে আছে এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান।ভাবছেন কীভাবে? আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায়, যা আপনার ঠোঁটকে ফিরিয়ে দেবে তার প্রাকৃতিক কোমলতা ও লালিত্য। প্রথম এবং সবচেয়ে সহজ উপায় হলো মধুর ব্যবহার।
প্রকৃতির এই অমৃত সুধা শুধু খেতেই মিষ্টি নয়, এটি একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। একটুখানি খাঁটি মধু সরাসরি ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এটি ঠোঁটে আর্দ্রতা ধরে রেখে নরম রাখবে এবং তার প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ফাটা ঠোঁটের সংক্রমণ রোধ করবে।এরপর আসে নারকেল তেলের জাদু।এক ফোঁটা নারকেল তেল ঠোঁটে মাখুন, দেখবেন যাদুর মতো কাজ করবে! এটি ঠোঁটকে গভীরভাবে পুষ্টি জোগায় এবং ফাটল ধরতে দেয় না। ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করতে চাইলে বানিয়ে ফেলুন একটি ঘরোয়া স্ক্রাব।
এক চিমটি চিনির সাথে সামান্য নারকেল তেল বা মধু মিশিয়ে আলতো করে ঠোঁটে ম্যাসাজ করুন। মরা চামড়া দূর হয়ে ঠোঁট হবে মসৃণ।রাতে শোয়ার আগে একটুখানি ঘি বা অলিভ অয়েল লাগানো এটিও একটি সোনালী অভ্যাস। এটি সারারাত কাজ করে ঠোঁটকে পুনরুজ্জীবিত করবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, প্রচুর পানি পান করুন। শরীরে পানির অভাবই হলো ঠোঁট ফাটার একটি বড় কারণ। এই ছোট্ট ও সহজ উপায়গুলোই পারে আপনার ঠোঁটকে রাখতে চিরতরুণ ও সুন্দর। প্রকৃতির এই সহজ উপহারগুলোকে কাজে লাগান এবং আপনার ঠোঁটের সুস্থতা ফিরে পান।
ঠোঁট ফাটার আসল কথা বোঝা জরুরী
নিশ্চয়ই আপনি লক্ষ্য করেছেন, শীত এলেই কিংবা এমনিতেই অনেক সময় ঠোঁট ফেটে যায়, খসখসে হয়ে ওঠে এবং অনেক সময় ব্যথাও করে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ঠোঁট ফাটার পিছনের আসল কারণগুলো কী? শুধু শীত বা গরমই কি একমাত্র দায়ী? আসলে বিষয়টি মোটেও তা নয়। আমাদের ঠোঁটের ত্বক সমগ্র হয়,মুখের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও নাজুক অংশ। এখানে তেল গ্রন্থির পরিমাণ অত্যন্ত কম, যার মানে হলো প্রাকৃতিকভাবে নিজেকে ময়েশ্চারাইজড রাখার ক্ষমতা এর খুবই সীমিত।
তাই বাইরের পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনবযেমন রোদ, শুষ্ক বাতাস বা ঠাণ্ডা বাতাস সরাসরি আঘাত হানে এই কোমল ত্বকের উপর।কিন্তু শুধু বাইরের কারণেই নয়, বরং আমাদের অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু অভ্যাসও এই সমস্যাকে ডেকে আনে। আপনি কি জানেন, বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো আসলে ঠোঁটকে আরও শুষ্ক করে তোলে? লালা বাষ্পীভূত হওয়ার সময় ঠোঁটের প্রাকৃতিক আর্দ্রতাকেও সাথে নিয়ে উবে যায়। আবার শরীরে পানির অভাব, ভিটামিন বি, আয়রন বা জিঙ্কের ঘাটতি হলে তার প্রথম ও স্পষ্ট লক্ষণ প্রায়ই ফুটে ওঠে এই ঠোঁটেই।
এমনকি আপনার ব্যবহার করা টুথপেস্ট, লিপস্টিক বা লিপবামে থাকা কোনো রাসায়নিক পদার্থের প্রতিও আপনার ঠোঁট হতে পারে অ্যালার্জিক। তাই শুধু একটি লিপবাম ব্যবহার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। সমস্যার গভীরে গিয়ে কারণটি চিনতে পারলেই কেবল আপনি খুঁজে পেতে পারেন এর সঠিক ও কার্যকরী সমাধান। আপনার ঠোঁটের যত্ন নেওয়া মানে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য রক্ষা করা নয়, বরং এটি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য চর্চারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আরো পড়ুনঃ ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াশ
প্রাকৃতিক গ্লিসারিন ও গোলাপজলের মিশ্রণ
আপনার কি কখনও মনে হয়েছে, রান্নাঘরের সাধারণ কিছু জিনিসই হতে পারে আপনার সৌন্দর্যের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী? ঠোঁট ফাটা কমাতে গ্লিসারিন ও গোলাপজলের এই মিশ্রণটি ঠিক তেমনই একটি জাদুকরী ফর্মুলা। ভাবতে পারেন, মাত্র দুটি উপকরণ আপনার ঠোঁটের চেহারা বদলে দিতে পারে সম্পূর্ণভাবে। গ্লিসারিনকে বলা হয় প্রাকৃতিক আর্দ্রতার আকর্ষক। এটি চারপাশের বাতাস থেকে নেমে আসা জলীয় বাষ্পকে টেনে নিয়ে আপনার ঠোঁটের গভীরে পৌঁছে দেয়। ফলে ঠোঁট হয়ে ওঠে কোমল ও নরম।
অন্যদিকে গোলাপজল শুধু তার মিষ্টি সৌরভই ছড়ায় না, এটি রক্তের চলাচল বাড়িয়ে ঠোঁটের প্রাকৃতিক গোলাপি আভা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এটি ঠোঁটের জমে থাকা মরা চামড়া দূর করতেও দারুণ কাজ করে।এই মহৌষধটি বানানোর পদ্ধতিও অত্যন্ত সহজ। একটি ছোট বাটিতে এক চা চামচ খাঁটি গ্লিসারিন নিন। তার সাথে মিশিয়ে নিন দুই চা চামচ তাজা গোলাপজল। এবারে একটি পরিষ্কার কটন বাড নিয়ে এই মিশ্রণটি তুলে নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ধুয়ে নিন মুখ আর তারপর আলতো করে পুরো ঠোঁটে লাগিয়ে নিন ।
এই প্রলেপ। সারারাত এভাবেই রাখতে দিন। সকালে উঠে যখন আয়নার দিকে তাকাবেন আপনি নিজেই চমকে যাবেন। আপনার ঠোঁটের শুষ্কতা আর ফাটা ভাব প্রায় ম্যাজিকের মতোই কমে গেছে। ঠোঁট হয়ে উঠেছে অসাধারণ রকমের মসৃণ আর প্রাণবন্ত। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি একদম প্রাকৃতিক এবং কোনো রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনার ঠোঁটের যত্ন নেয়। তাই দেরি না করে আজই শুরু করে দিন এই সহজ ও কার্যকরী প্রাকৃতিক চর্চা।
মধুর অমৃত সুধা ও দুধের ক্রিমের প্রলেপ
নিজের ঠোঁটের রুক্ষতা আর ফাটা ভাব নিয়ে কি আপনি বিব্রত বোধ করেন? প্রতিদিন নানা রকমের লিপবাম ব্যবহার করেও কি সন্তোষজনক ফল পাচ্ছেন না? তাহলে আজই বানিয়ে ফেলুন আপনার নিজের হাতে তৈরি একটি জাদুকরী প্রলেপ, যা আপনার ঠোঁটের জন্য বয়ে আনবে প্রাকৃতিক সজীবতা। উপকরণ মাত্র দুটি -খাঁটি মধু আর তাজা দুধের সর বা মালাই। এই সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি করা প্রলেপ আপনার ঠোঁটের জন্য হতে পারে পরিবর্তনকারী এক অভিজ্ঞতা। মধু কাজ করে একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে।
যার মানে এটি আপনার ঠোঁটে গভীর আর্দ্রতা আটকে রাখে এবং তার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণাবলি দিয়ে ফাটা স্থানের সংক্রমণ রোধ করে। আর দুধের ক্রিম?এটি শুধু মাখনের মতো নরমই নয়, বরং এতে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড আলতো করে ঠোঁটের মরা চামড়া তুলে ফেলে এবং প্রাকৃতিক কোমলতা ফিরিয়ে আনে। তৈরি করার নিয়ম খুবই সহজ -এক চা চামচ মধুর সাথে অল্প পরিমাণে দুধের ক্রিম মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এই প্রলেপটি ঠোঁটে লাগিয়ে পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট রেখে দিন।
তারপর কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে ঘষে তুলে ফেলুন। সপ্তাহে তিন থেকে চারবার এই প্রলেপ ব্যবহারে আপনি দেখতে পাবেন অবাক করা ফল -ফাটা দাগ কমে গেছে, শুষ্কতা উধাও, আর ঠোঁটের গঠন হয়ে উঠেছে মসৃণ ও কোমল। এই প্রতিকার শুধু কার্যকরই নয়, এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত। তাই আজই শুরু করুন এই সহজ প্রাকৃতিক চর্চা এবং আপনার ঠোঁটে ফিরে পাক তার হারানো তরতাজা ভাব।
আরো পড়ুনঃ
ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াশ
নারকেল তেল ও চিনির স্ক্রাব এর কোমল স্পর্শ
ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায় ,আপনার কি কখনোই মনে হয়েছে, রান্নাঘরের সাধারণ দুটি জিনিস মিলে তৈরি হতে পারে ঠোঁটের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী এবং প্রাকৃতিক স্ক্রাব? নারকেল তেল আর চিনির এই সহজ মিশ্রণটি আপনার ঠোঁটের যত্নে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ভাবতে অবাক লাগে, এই দুটি সহজলভ্য উপাদানই আপনার ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করে প্রাকৃতিক গোলাপি আভা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকরী। নারকেল তেল একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।
যা ঠোঁটের গভীরে পুষ্টি পৌঁছে দেয় এবং ফাটল ধরতে বাধা দেয়। আর চিনির কণাগুলো একদম আলতোভাবে এক্সফোলিয়েট করে, যা বাজারের রাসায়নিক যুক্ত স্ক্রাবের মতো কঠোর নয়।এই স্ক্রাবটি তৈরি করতে আপনার লাগবে মাত্র এক চা চামচ নারকেল তেল আর এক চা চামচ চিনি। দুটোকে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন একটি নরম পেস্ট তৈরি হওয়া পর্যন্ত। এবারে আঙুলের ডগায় অল্প পরিমাণ করে নিয়ে খুব আলতো হাতে আপনার ঠোঁটে বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করুন।মনে রাখবেন, জোর দিয়ে ঘষবেন না, মাত্র এক মিনিটের এই আলতো ম্যাসাজই যথেষ্ট। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সঙ্গে সঙ্গে আপনি অনুভব করবেন আপনার ঠোঁটের রুক্ষতা কোথায় উধাও হয়ে গেছে। সপ্তাহে মাত্র একবার এই স্ক্রাব ব্যবহার করলেই আপনি দেখতে পাবেন অসাধারণ ফল। আপনার ঠোঁট হয়ে উঠবে নরম, মসৃণ এবং প্রাণবন্ত। এই স্ক্রাবের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি একদম প্রাকৃতিক এবং কোনো রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনার ঠোঁটের যত্ন নেয়।
এলোভেরা জেলের শীতল স্পর্শ
নিজের ঠোঁটের জ্বালাপোড়া ও ফাটা ভাব নিয়ে কি আপনি অতিষ্ঠ? রোদে পোড়া কিংবা শীতের শুষ্ক হাওয়ায় আপনার ঠোঁট কি হয়ে উঠেছে রুক্ষ ও অনুভূতিহীন? তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে প্রকৃতির একটি আশ্চর্য উপহার -এলোভেরা জেল। এই সবুজ রত্নটি আপনার ঠোঁটের জন্য বয়ে আনবে শীতল পরশ আর তাৎক্ষণিক প্রশমন। ভাবতে পারেন, আপনার বাগানের কিংবা বারান্দার গাছ থেকে পাওয়া এক টুকরো তাজা এলোভেরা পাতা হতে পারে আপনার ঠোঁটের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু।
এলোভেরা জেল ঠোঁটের জন্য কেন এত কার্যকরী? এর রহস্য লুকিয়ে আছে এর শীতল ও নিরাময়কারী গুণে। এটি ঠোঁটের ফাটা স্থানকে প্রাকৃতিকভাবে মসৃণ করতে সাহায্য করে, জ্বালাভাব কমায় এবং লালচে ভাব দূর করে। ঠোঁটের গভীরে কাজ করে এটি আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে এবং নতুন ত্বক গজাতে উদ্দীপিত করে। ব্যবহারের পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ। একটি তাজা এলোভেরা পাতা ভেঙে এর ভিতর থেকে স্বচ্ছ জেলটি বের করে নিন। এই জেলটি সরাসরি আপনার ঠোঁটে লাগিয়ে কিছুক্ষণ শুকাতে দিন।
আপনি চাইলে এটি পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট রেখে ধুয়েও ফেলতে পারেন অথবা রাতভরই রাখতে পারেন। রাতে শোয়ার আগে লাগিয়ে রাখলে সকালে উঠে আপনি দেখবেন অসাধারণ ফল। আপনার ঠোঁটের ফাটা ভাব প্রায় ম্যাজিকের মতোই কমে গেছে এবং ঠোঁট হয়ে উঠেছে নরম ও প্রাণবন্ত। এই প্রাকৃতিক পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি একদম নিরাপদ এবং কোনো রাসায়নিক নেই বলে যেকোনো বয়সের মানুষই এটি ব্যবহার করতে পারেন। তাই আজই বেছে নিন প্রকৃতির এই শীতল উপহার এবং আপনার ঠোঁটকে দিন প্রাকৃতিক যত্ন।
ঘি এর প্রাচীন রূপচর্চা
আপনার কি কখনো মনে হয়েছে, আপনার রান্নাঘরে থাকা একটি জিনিসই হতে পারে আপনার ঠোঁটের সবচেয়ে দামি রূপচর্চার পণ্য? হ্যাঁ, আমি কথা বলছি খাঁটি ঘি এর কথা। আমাদের প্রাচীন রূপচর্চার এই গোপন রহস্যটি আজও সমানভাবে কার্যকর। আমাদের দাদি-নানিরা তাদের যৌবন ধরে রাখতে যে জিনিসটি ব্যবহার করতেন, সেই ঘি আজও আপনার ফাটা ঠোঁটের জন্য হতে পারে সবচেয়ে কার্যকরী মহৌষধ।ঘি ঠোঁটের জন্য এতটা উপকারী কেন? এর রহস্য লুকিয়ে আছে এর গঠনে। ঘিতে রয়েছে প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড যা ঠোঁটের ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে তাকে পুষ্টি আর্দ্রতা প্রদান করে। এটি ঠোঁটের উপর একটি অদৃশ্য প্রটেক্টিভ লেয়ার তৈরি করে যা বাইরের রুক্ষ পরিবেশের প্রভাব থেকে ঠোঁটকে রক্ষা করে।
শুধু তাই নয়, নিয়মিত ঘি ব্যবহারে ঠোঁটের কালচে ভাবও দূর হয় এবং প্রাকৃতিক গোলাপি আভা ফিরে পায়।ব্যবহারের পদ্ধতি এতটাই সহজ যে আপনি আজ থেকেই শুরু করতে পারেন। প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে এক ফোঁটা খাঁটি ঘি আঙুল দিয়ে নিয়ে হালকা করে ঠোঁটে মাখুন। এটি পুরো রাত কাজ করবে আপনার ঠোঁটের গভীরে। সকালে উঠে আপনি নিজেই চমকে যাবেন আপনার ঠোঁটের পরিবর্তনে। যে ঠোঁট শুষ্ক ও ফাটা ছিলো, সেটি হয়ে উঠবে নরম, মসৃণ ও প্রাণবন্ত। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। তাই দেরি না করে আজই ফিরে যান আমাদের প্রাচীন রূপচর্চার এই স্বর্ণযুগে এবং আপনার ঠোঁটকে উপহার দিন প্রকৃতির বিশুদ্ধ যত্ন।
সুষম খাদ্য অভ্যাস গড়ে তোলা
আপনার কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে আপনার প্লেটে রাখা খাবারই হতে পারে আপনার ঠোঁটের সৌন্দর্যের চাবিকাঠি? আমরা প্রায়শই বাহ্যিক যত্নের পেছনে সময় ও অর্থ ব্যয় করি, কিন্তু ভুলে যাই যে প্রকৃত সৌন্দর্য শুরু হয় ভিতর থেকে। সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা শুধু শরীরের জন্যেই নয়, এটি আপনার ঠোঁটের সুস্থতা ও সজীবতারও মূল ভিত্তি।ভাবুন তো, আপনার শরীরে যখন ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, আয়রন বা জিঙ্কের মতো পুষ্টি উপাদানের অভাব হয়, তখন তার প্রথম ইঙ্গিতটা প্রায়ই প্রকাশ করে হয় ঠোঁটেই।
ঠোঁট ফাটা, কোণে ঘা হওয়া, বা ঠোঁটের রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এসবই কিন্তু শরীরের অভ্যন্তরীণ অভাবের লক্ষণ। তাই শুধু বাহ্যিক ক্রিম বা লিপবাম দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আপনার ঠোঁটকে চিরতরুণ ও প্রাণবন্ত রাখতে হলে আপনাকে খাদ্যতালিকায় যোগ করতে হবে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার যেমন কাঠবাদাম ও সূর্যমূখীর বীজ, যা ঠোঁটের ত্বককে রাখে নরম ও মসৃণ। সবুজ শাকসবজি, ডিম, মাছ ও ডালে থাকা আয়রন ও জিঙ্ক ঠোঁটের রক্তসঞ্চালন উন্নত করে প্রাকৃতিক গোলাপি আভা ফিরিয়ে আনে।
আর পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান তো রয়েছেই, যা শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং ঠোঁট ফাটা রোধ করে।একটি সুষম খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনার ঠোঁটের স্বাস্থ্যকে পরিবর্তন করতে। মনে রাখবেন, আপনার ঠোঁটের সৌন্দর্য হচ্ছে আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি আয়না। তাই আজই আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন পুষ্টি সমৃদ্ধ এই খাবারগুলো এবং দেখুন কিভাবে আপনার ঠোঁট প্রাকৃতিকভাবে হয়ে ওঠে আরও সুন্দর ও প্রাণবন্ত।
আরো পড়ুনঃ
ছেলেদের মুখের তৈলাক্ততা দূর করার ফেসওয়াশ
পানির অপরিহার্য ভূমিকা
আপনার কি কখনোই মনে হয়েছে, পৃথিবীর সবচেয়ে সহজলভ্য এবং সস্তা সুন্দরতার রহস্যটি হয়তো আপনি প্রতিদিন উপেক্ষা করে যাচ্ছেন? আমি কথা বলছি খাঁটি পানির কথা। আপনার ঠোঁটের সৌন্দর্য রক্ষায় পানির ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বলে শেষ করা যাবে না। ভাবতে পারেন, আপনার শরীরে পানির সামান্য অভাবটুকুই সর্বপ্রথম প্রকাশ পায় আপনার ঠোঁটে। যখন আপনি পর্যাপ্ত পানি পান করেন না, তখন আপনার শরীর তার সঞ্চিত পানি ব্যবহার করতে শুরু করে এবং ঠোঁটের মতো সংবেদনশীল অঙ্গ প্রথমেই এর প্রভাব আরো থাকে।
আপনার ঠোঁট ফাটার পেছনে বাহ্যিক কারণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ এই পানির অভাবই অনেক বেশি দায়ী। প্রতিদিন আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করলে আপনার শরীর থাকে সম্পূর্ণভাবে আর্দ্র। এই আর্দ্রতা শুধু আপনার শরীরের ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি প্রকাশ পায় আপনার ত্বকেও এবং সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আপনার ঠোঁটে। একটি আর্দ্র শরীর মানেই হলো নরম, মসৃণ ও প্রাণবন্ত ঠোঁট। চা, কফি বা কোমল পানীয় কখনোই বিশুদ্ধ পানির বিকল্প হতে পারে না। বরং কিছু পানীয় শরীর থেকে পানি শুষে নেয়।
ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায় ,তাই আপনার উচিত সারাদিনে অল্প অল্প করে নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি পান করা।পানি হচ্ছে প্রকৃতির দেওয়া সবচেয়ে কার্যকরী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন বিউটি টনিক। এটি আপনার ঠোঁটের ফাটল দূর করে, প্রাকৃতিক গোলাপি আভা ফিরিয়ে আনে এবং ঠোঁটকে রাখে কোমল ও সুন্দর। তাই দামি ক্রিম বা লিপবামের উপর নির্ভরশীল হওয়ার আগে আজ থেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দেখবেন অল্প দিনের মধ্যেই আপনার ঠোঁটের চেহারা বদলে গেছে।
শেষ কথাঃঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায়
ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায় ,আজ আমরা যে যাত্রাপথটি একসাথে অতিক্রম করলাম, তা শুধু ঠোঁট ফাটা সমস্যার সমাধান নয়, বরং প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার একটি সুন্দর অভিযাত্রা। আপনার রান্নাঘরেই লুকিয়ে আছে সৌন্দর্যের এমন সব গোপন রহস্য, যা শুধু কার্যকরই নয়, সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। মধুর মিষ্টি আর্দ্রতা, নারকেল তেলের কোমল ছোঁয়া, গ্লিসারিন ও গোলাপজলের মোহনীয় মিশ্রণ, এলোভেরার শীতল পরশ আর ঘি এর প্রাচীন রূপচর্চা এই সহজ উপায়গুলোই আপনার ঠোঁটকে ফিরিয়ে দিতে পারে তার হারানো রাজকীয়তা।কিন্তু মনে রাখবেন।প্রকৃত সৌন্দর্যের মূলমন্ত্র হলো ধৈর্য্য ও নিয়মানুবর্তিতা। রাতারাতি ফল।



সফটনড়িতে নীতিমালা ; মেনে ;কমেন্ট করুন ;প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url