রুটি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
রুটি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা,রুটি নিত্যদিনের এই সহজ খাবারটি কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাকি ক্ষতিকর? গোটা শস্যর রুটি থেকে মাল্টিগ্রেইন অপশন গ্লুটেল ইস্যু থেকে ডায়াবেটিসের ঝুকি রুটি সম্পর্কে সম্পূর্ণ গাইড।
জানুন কিভাবে বেছে নিবেন সেরা রুটি, কিভাবে রুটি হতে পারে আপনার ডায়েটের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী। এই আর্টিকেলটি পড়ুন এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিন। এই বিস্তারিত আর্টিকেলে জানুন রুটি খাওয়ার সহজ উপকারিতা এবং অপকারিতা, সঠিক খাওয়ার পদ্ধতি।
পেজ সূচিপত্রঃরুটি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- রুটি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- রুটির সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক
- পুষ্টির একটি পাওয়ার হাউজ-রুটির গঠন
- হজমের উন্নতি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় রুটি
- হৃদ যন্ত্রের সুস্থতা ও দীর্ঘ মেয়াদী রোগ প্রতিরোধ করে রুটি
- শক্তির উৎস ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় রুটির ভূমিকা অপরিসীম
- অন্ধকারের দিক-রুটি খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারিতা
- পুষ্টির এক সুক্ষ্ম জাল - রুটির গঠনবিন্যাসকে বুঝে নেওয়া
- রক্তের শর্করা ও গ্লুটেন সংবেদনশীলতা
- শেষ কথাঃ রুটি খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা
রুটি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
রুটি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা হল, রুটি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার একটি পছন্দনীয় খাবার বা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই সহজ ও সাশ্রয়ী খাদ্যটি যখন সঠিক উপায়ে ও সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করা হয়, তখন তার স্বাস্থ্যের জন্য অন্তত উপকারী হয়ে ওঠে। গোটা শস্যর আটাই তৈরি রুটি পুষ্টির একটি সম্পূর্ণ উৎসব।। এতে বিদ্যমান জটিল কার্বোহাইড্রেট দেহের স্থিতিশীল শক্তি সরবরাহ করে যা সকাল অথবা দুপুরের খাদ্য হিসেবে আমাদের কর্মক্ষমতা ও সর্তকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে ।আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো এতে থাকে আর হজম প্রণালী কে সক্রিয় রাখে।
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এবং অঙ্গের সুস্থ ব্যাকটেরিয়া দের জন্য পুষ্টি যোগান দেয়। এছাড়া রুটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আইরন ম্যাগনেশিয়াম ও জিংক এর মত প্রয়োজনীয় খনিজের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস ৪ সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে রুটি খাওয়ার কিছু সম্ভাব্য অসুবিধা রয়েছে যা মূলত এর ধরন ও পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল পরিশোধিত ময়দা বা ময়দা দিয়ে তৈরি রুটি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় ,এবং ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে অথবা একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো গ্লুকটেন ।
কিছু মানুষের জন্য গ্লুক টেন সংবেদনশীলতা বা সিলিয়াক ডিজিজের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেখানে গ্রুপটিন গ্রহণে পেটে ব্যথা পেট ফাঁপা বা অন্যান্য শারীরিক প্রতিক্রিয়া হয় সুতরাং রুটির উপকারিতা লাভ করতে হলে গোটা শস্য-রুটি বেছে নেওয়া এবং তা পরিমিত পরিমানে গ্রহণ করা ।প্রয়োজন এটি যখন ডাল শাকসবজি ও প্রোটিনের সঙ্গে সুষম আহারের অংশ হিসেবে খাওয়া হয় তখনই কেবল এর পূর্ণ গুণবালি অর্জন করা সম্ভব সচেতন পছন্দই পারে রুটি খাওয়াকে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে পরিণত করে।
রুটির সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক
বাঙালির জীবনে রুটির স্থান একেবারেই আলাদা ভোর বেলায় নাস্তা হোক কিংবা রাতের হালকা খাবার হোক। এক টুকরো গরম গরম রুটির সঙ্গে তরকারি যোগাযোগ যেন আত্মার এটি শুধু একটি খাদ্যই নয় আমাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ।কিন্তু এই সহজ ও সাদামাটা খাবারটিকে ঘিরে আজকাল নানা প্রশ্ন উঠছে। কেউ বলছে এটি স্বাস্থ্যের জন্য অন্তত উপকারি আবার কেউ একে দায়ী করছে ওজন বৃদ্ধি ও নানান শারীরিক সমস্যার জন্য।
এগুলো মত বিরোধির মাঝে সাধারণ মানুষের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই নিবন্ধনটির উদ্দেশ্যেই রুটি সম্পর্কের সকল বৈজ্ঞানিক ও প্রয়োগিক দিক একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা ।আমরা রুটি খাওয়ার ত্রুটি বৃচ্যুতি উভয় দিকেই তুলে ধরব যাতে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যে আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রুটির স্থান কতটুকু হওয়া উচিত চলুন শুরু করা যাক এই সহজ বিষয় এ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যবস্তুর গভীর রে গিয়।
পুষ্টির একটি পাওয়ার হাউজ-রুটির গঠন
রুটি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, তৈরি হয় আটা পানি ও কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান দিয়ে কিন্তু এর সাধারণ উপাদান গুলোর মধ্যই লুকিয়ে আছে সাধারণ সম্পুষ্টিগণ। রুটির পুষ্টিমান মূলত নির্ভর করে ব্যবহার করা আটার ধরনের উপর সাদা ময়দার রুটি আটার রুটি বা মাল্টি গ্রেইন। রুটিন ভিন্ন সবচেয়ে পুষ্টিকর হিসেবে ধরা হয় এতে রয়েছে আমাদের শরীরের জন্য প্রাথমিক শক্তির উৎস ।হঠাৎ করে বাড়ায় না এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তি ও পূর্ণতার অনুভূতি দেয় এছাড়াও রুটি হলো বা আশের একটি চমৎকার উৎস এই আশ হজম প্রণালীকে সচ্ছল রাখে ।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অঙ্গের সুস্থ ব্যাকটেরিয়া দের জন্য খাবার যোগান দেন।রুটিতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য প্রোটিনের পরিমাণ যা দেহের মাংসপেশী গঠন ও মেরামতির জন্য অপরিহার্য।এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন বি এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা মেটাবলিজম স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা এবং লোহিত রক্তকণিকা গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইরন ম্যাগনেসিয়াম সেলেনিয়াম ও জিংক পাওয়া যায়। যার রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ থেকে শুরু করে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করা পর্যন্ত নানা কাজে লাগে অর্থাৎ একটি পুষ্টিকর আটার রুটি শুধু পেটি ভরে না শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও সরবরাহ করে।
হজমের উন্নতি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় রুটি
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপকারিতা গুলোর মধ্যে একটি হলো রুটি আমাদের হজম শক্তির উন্নত করে। গোটা শস্য আটায় থাকে ও দ্রবনীয় আশ দ্রব বলে ফাইবার মলকে নরম করে এবং তার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যা অঙ্গের মধ্য দিয়ে মল সহজে চলাচলে সাহায্য করে।এটি নিয়মিত পেট পরিষ্কার রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যে অ্যাসিটি বদ হজমের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় প্রিবায়োটিক এর কাজ করে যা আমাদের সামগ্রিক গাট হেলথ এর জন্য অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ওজন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও রুটি একটি চমৎকার সহায়ক হতে।
পারে গোটা শস্যর রুটিতে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট ও অসহযোগ হতে বেশি সময় নেয়। ফলে খাওয়ার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকা অনুভূতি হয় এটি স্বাভাবিকভাবেই আমাদের অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখে। এবং স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমায় ফলে সারাদিনে মোট ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে ওজন কমানো বা স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে ।অন্তত কার্যকারে তবে এখানে সতর্কতা হলো রুটির সঙ্গে কি খাচ্ছেন সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বেশি ঘি মাখন বা ক্যালরি সমৃদ্ধ তরকারি সঙ্গে রুটি খেলে ওজন কমার বদলে ওজন আরো বাড়তেই থাকবে দিন দিন।
একটির একটি পাওয়ার হাউজ রুটির গঠন
রুটি খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা তৈরি হয় আটা পানি ও কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান দিয়ে কিন্তু এর সাধারণ উপাদান গুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে সাধারণ পুষ্টিগণ । রুটির পুষ্টিমান মূলত নির্ভর করে ব্যবহার করা আটার ধরনের ওপর সাদা ময়দার রুটি আটার রুটি ও মাল্টিগ্রেইন। রুটির ভিন্ন সবচেয়ে পুষ্টিকর হিসেবে ধরা হয় এতে রয়েছে আমাদের শরীরের জন্য প্রাথমিক শক্তির উৎস। হঠাৎ করে বাড়ায় না এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তি ও পূর্ণতার অনুভূতি দেয় এছাড়াও রুটি হলো প্রণালীকে সচ্ছল রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অঙ্গের সুস্থ ব্যাকটেরিয়া দের জন্য খাবার যোগান দেয়।
রুটিতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য প্রোটিনের পরিমাণ যা দেহের মাংসপেশি গঠন ও মেরামতির জন্য অপরিহার্য। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন বি এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা মেটাবলিজম স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা এবং লোহিত রক্তকণিকা গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়রন ম্যাগনেশিয়াম সেলেনিয়াম ও জিংক পাওয়া যায়। যার রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ থেকে শুরু করে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করা পর্যন্ত কাজে লাগে না অর্থাৎ একটি পুষ্টিকর আটার রুটি শুধুই পেটে ভরে না এটা শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও সরবরাহ করে।
আরো পড়ুনঃ শীতকালের পিঠার নাম
হজমের উন্নতি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় রুটি
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপকারিতা গুলোর মধ্যে একটি হল রুটি আমাদের হজম শক্তি উন্নত করে। গোটা শস্য আটায় থাকে ও দ্রবণীয় আজ দ্রব্য বলে ফাইবার মলকে নরমরে এবং তার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যা অঙ্গের মধ্য দিয়ে মল সহজে চলাচলে সাহায্য করে। নিয়মিত পেট পরিষ্কার রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এসিডিটি বদ হজমের মত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় প্রিবায়োটিক এর কাজ করে যা আমাদের সামগ্রিক গাট হেলথ এর জন্য অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ওজন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও রুটি একটি চমৎকার সহায়ক হতে। পারে গোটা শস্য ও রুটিতে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট ও অসহযোগ হতে বেশি সময় নাই ।
ফলে খাওয়ার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকার অনুভূতি হয় এটি
স্বাভাবিকভাবেই আমাদের অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখে এবং স্ন্যাকস
খাওয়ার প্রবণতা কমায় ফলে সারাদিনে মোট ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে
থাকে ওজন কমানো বা স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে অন্তত কার্যকর তবে এখানে সতর্কতা
হল রুটির সঙ্গে কি খাচ্ছেন সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । বেশি ঘি মাখন বা
ক্যালোরি সমৃদ্ধ তরকারির সঙ্গে রুটি খেলে ওজন কমার বদলে ওজন আরো দিন দিন বাড়তেই
থাকবে।
হৃদ যন্ত্রের সুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ করে রুটি
গোটা শস্যের আটাই তৈরি রুটি কেবলমাত্র আমাদের ক্ষুধা নিবারণেরি কাজ করে না বরং এটি আমাদের হৃদ যন্ত্রের জন্য একপ্রকার রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে গমের আটায় উপস্থিত দ্রবণীয় আজ আমাদের শরীরে একটি অন্যান্য ভূমিকা পালন করে। এই আঁশটি আমাদের পরিপাকতন্ত্রে গিয়ে রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল এল এর সাথে মিশে যায় ।এবং তার শরীর থেকে প্রকৃতভাবে নিষ্কাশিত হতে সহায়তা করে এই প্রক্রিয়াটি অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ।কারণ এটি রক্তনালী গুলোতে চব্বিশ জমে বাধার সৃষ্টি হওয়া থেকে বিরত রাখে ।
যা শেষ পর্যন্ত হৃদরোগ হার্ট এটাক এবং স্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করে। শুধু তাই নয় নিয়মিতভাবে গোটা শস্যর রুটি গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।জাহিদ যন্ত্রের সুস্থতার আরেকটি মৌলিক শর্ত কিন্তু রুটির গুণবালি কেবল হিপ যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গোটা শস্যর রুটিতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ও খনিজ উপাদান গুলোর দেহের কোষ গুলোকে এক্সিডেন্টিভ স্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করে। যা ক্যান্সার সহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী রোগের জন্য দায়ী।
এছাড়া ও রুটিতে থাকা আর রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য পরিমানে হ্রাস করে। এটি একটি স্থিতিশীল ওজন বজায় রাখতে সহায়তা করার মাধ্যমে অসংখ্য ওজন সম্পর্কিত জটিলতা থেকেও আমাদের দূরে রাখে। সুতরাং আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় একটি পুষ্টিকর গোটা শস্য রুটির উপস্থিতি কেবল আজকের জন্যই নয় বরং একটি উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান ভবিষ্যতের জন্য ও একটি বুদ্ধি দীপ্ত বিনিয়োগ বলে গণ্য করা যেত পারে।
শক্তির উৎস ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতার রুটির ভূমিকা অপরিসীম
জটিল কার্বোহাইড্রেটে সমৃদ্ধ গোটা শস্যের রুটি আমাদের শরীরের জন্য একটি আদর্শ এবং নির্ভরযোগ্য শক্তির উৎস। দুটি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, অনেকের ধারণা শক্তি দ্রুত পাওয়ার জন্য সরল শর্করা গ্রহণ করাই উত্তম, কিন্তু বাস্তবে গোটা গমের রুটি থেকে প্রাপ্ত শক্তিই অধিকতর টেকসাহস্য ও স্বাস্থ্যকর।এটি আমাদের পরিপাকতন্ত্রে ধীরে ধীরে ভাঙতে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পায় না এবং দেহে শক্তির যোগান দীর্ঘক্ষণ ধরে অবিচ্ছিন্ন থাকে। এই নিয়মিত ও স্থিতিশীল শক্তিপ্রবাহ আমাদেরকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্মচাঞ্চল্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।অন্যদিকে ক্যাফেইন বা মিষ্টিজাতীয় দ্রব্যের ন্যায় ক্ষণস্থায়ী উদ্দীপনা ও অবসাদের ঊর্ধ্বে থাকে।
ফলে দিনব্যাপী আমাদের কর্মোদ্যম ও উৎপাদনশীলতা উভয়ই বৃদ্ধি পায়।কিন্তু রুটির গুণ কেবল শারীরিক শক্তি প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। আমাদের মস্তিষ্ক তার সমস্ত জ্ঞানীয় কাজ, যেমন চিন্তা, স্মরণ ও মনোযোগ, সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য গ্লুকোজের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল, যা কার্বোহাইড্রেট থেকে সরবরাহ করা হয়। রুটি থেকে প্রাপ্ত জটিল কার্বোহাইড্রেট মস্তিষ্কে এই গ্লুকোজের একটি স্থির ও নিয়মিত প্রবাহ নিশ্চিত করে।যা আমাদের বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা প্রকাশের জন্য অপরিহার্য।
আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, রুটিতে বিদ্যমান ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, বিশেষ করে থায়ামিন ও ফোলেট, স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পুষ্টি উপাদানগুলি স্নায়ুসংকেত প্রেরণে সহায়তা করে, স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই বলা যায়, সকালের নাস্তায় দুই পিস গোটা শস্যের রুটি কেবল পেটই ভরায় না, এটি আমাদের দেহ ও মস্তিষ্ক উভয়কেই প্রস্তুত করে তোলে সারাদিনের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য।
আরো পড়ুনঃ শীতকালের পিঠার নাম
অন্ধকারের দিক রুটি খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারিতা
রুটি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন এটি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য অভ্যাসের একটি সুপরিচিত অঙ্গ হলেও এর একটি সম্ভাব্য অন্ধকার দিক রয়েছে। যা আমাদের সচেতনার সাথে বিবেচনা করা উচিত। এই ঝুঁকি গুলো প্রধানত রুটির ধরন,গুণমান এবং ব্যক্তিবিশেষের শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভরশীল। সর্বপ্রথম যে বিষয়টি আলোচনায় আসে তা হলো গ্লুটেন নামক প্রোটিন। গম, যব বা রাইয়ে প্রাকৃতিকভাবে উপস্থিত এই উপাদানটি কিছু ব্যক্তির জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সিলিয়াক ডিজিজে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গ্লুটেন গ্রহণ ক্ষুদ্রান্ত্রের আস্তরণের মারাত্মক ক্ষতি করে, যা পুষ্টির শোষণে বাধা সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে অপুষ্টি ও অন্যান্য জটিলতার জন্ম দেয়। এছাড়াও, অনেক মানুষ নন-সিলিয়াক গ্লুটেন সংবেদনশীলতায় ভোগেন, যার ফলে রুটি খাওয়ার পর পেটফাঁপা, বদহজম, মাথাব্যথা বা ক্লান্তির মতো উপসর্গগুলি দেখা দিতে পারে। দ্বিতীয়ত,পরিশোধিত ময়দা বা মেইদা দিয়ে তৈরি রুটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রক্রিয়াকরণের সময় গমের রুক্ষাংশ ও পুষ্টিকর ভ্রূণ হয়ে যাওয়ায় এতে আঁশ ও অত্যাবশ্যক পুষ্টির অভাব দেখা দেয়।
এই ধরনের রুটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা ইনসুলিন প্রতিরোধের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। অধিকন্তু, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত অনেক রুটিতেই স্বাদ ও সতেজতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত লবণ, প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম উপাদান যোগ করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই, রুটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সংযম উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পুষ্টির এক সুক্ষ্ম জাল - রুটির গঠনবিন্যাসকে বুঝে নেওয়া
এক টুকরো সাধারণ দেখতে রুটির মধ্যে লুকিয়ে আছে পুষ্টি বিজ্ঞানের এক আশ্চর্য জগত। রুটি তৈরির মূল উপাদান গুলো যতটা সহজ তার পুষ্টির গুণগত গঠন ততটাই জটিল ও চমকপ্রদ। আসুন অণুবীক্ষণ যন্ত্র এর নিচে রাখি আমাদের প্রিয় এই খাবারটিকে। রুটির পুষ্টিমান একটি চলরাশ; এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের আটা ব্যবহার করছেন তার উপর। সাদা ময়দার রুটি, আটার রুটি, যবের রুটি, বা বাজরা-রাগি-ওটসের মিশ্রণে তৈরি মাল্টিগ্রেন রুটি -প্রতিটিরই আলাদা পুষ্টি পরিচয়। তবে, যদি সবচেয়ে পুষ্টিকর এবং সুপারিশকৃত বিকল্প এর কথা বলি।
তাহলে তা নিঃসন্দেহে হোল হুইট বা গোটা গমের আটার রুটি। এই রুটিই হলো 'কমপ্লিট প্যাকেজ'। এতে বিদ্যমান জটিল কার্বোহাইড্রেট একটি টেকসই শক্তি মুক্তি প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। এটি ধীরে ধীরে ভাঙে, ফলে আপনার রক্তে শর্করা একেবারে আকাশছোঁয়া হয় না, বরং একটি অবিচলিত প্রবাহ-এ শক্তি সরবরাহ করতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এটি হলো রুটির ব্রেন। এরপর আসে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ-এর কথা, যা রুটির হৃদয়। এই আঁশ আমাদের হজমতন্ত্রের জন্য একটি জাদু যার মত। এটি না শুধু মাত্র কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, কিন্তু এছাড়াও অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়াদের জন্য খাদ্য সরবরাহ এর কাজ করে একটি সুস্থ অঙ্গের মাইক্রোবায়ন তৈরি করা।
প্রোটিন, যা দেহের বিল্ডিং ব্লক তাও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর মতো সূক্ষ্ম পুষ্টি উপাদানগুলো বিপাক কে চাঙ্গা রাখে, স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং নতুন লাল রক্ত কণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে। খনিজ যেমন আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম, ও জিঙ্ক নিরব অভিভাবক হিসেবে কাজ করে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হাড়ের স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক কোষীয় কার্যকারিতা শক্তিশালী করে। অর্থাৎ, একটি ভালো রুটি হলো একটি মিনি-পাওয়ার হাউস, যা শক্তি, পুষ্টি ও সুস্থতা একসাথে প্যাকেজ আকারে পৌঁছে দেয় আপনার দোরগোড়ায়।
রক্তের শর্করা ও গ্লুটেন সংবেদনশীলতা
রুটি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা,রুটি এবং এর সাথে সম্পর্কিত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য ইস্যু হলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্লুটেন সংবেদনশীলতা। এই দুটি বিষয়ই আমাদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হতে শেখায়। প্রথমত রুটির ধরন এবং রক্তে শর্করার মধ্য একটি গভীর সম্পর্ক। সাদা ময়দা বা পরিশোধিত আটায় তৈরি রুটি শরীরে প্রবেশের পর খুব দ্রুত ভেঙে যায়, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ করেই বাড়িয়ে তোলে। এই আকস্মিক বৃদ্ধি অগ্ন্যাশয় থেকে অতিরিক্ত ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে শরীর, এবং এর ফলে খুব দ্রুতই শর্করার মাত্রা আবার নেমেও যেতে পারে।এই ঊর্ধ্ব-অধঃপতনশীল অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ইনসুলিন প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে পারে।
যা টাইপ, ডায়াবেটিসের একটি প্রধান পূর্বলক্ষণ। অন্যদিকে, গোটা শস্যের আটায় তৈরি রুটিতে থাকা আঁশ ও জটিল কার্বোহাইড্রেট এই প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে, ফলে শর্করা ধীরে ধীরে রক্তে মিশে এবং একটি স্থিতিশীল শক্তির যোগান দেয়, যা ডায়াবেটিস রোগী ও প্রিডায়াবেটিস অবস্থার ব্যক্তিদের জন্য অধিকতর নিরাপদ।দ্বিতীয়ত, গ্লুটেন সংবেদনশীলতা একটি জটিল ও বহুল আলোচিত বিষয়। গম, যব ও রাইয়ে প্রাকৃতিকভাবে উপস্থিত এই প্রোটিনটি কিছু মানুষের শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।সিলিয়াক ডিজিজ হলো এর সবচেয়ে তীব্র রূপ, যেখানে গ্লুটেন গ্রহণ ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীরকে আক্রমণ করে এবং পুষ্টি শোষণে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়।
তবে এর চেয়েও বেশি প্রচলিত হলো নন-সিলিয়াক গ্লুটেন সেনসিটিভিটি। এই অবস্থায় রোগনির্ণয়ের মাধ্যমে সিলিয়াক ডিজিজ শনাক্ত না হলেও গ্লুটেনযুক্ত খাবার গ্রহণের পর পেটে ব্যথা, পেটফাঁপা, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা ও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। দুর্ভাগ্যবশত, এই সংবেদনশীলতা প্রায়শই অপ্রতুল বা সহজে শনাক্ত হয় না।ফলে অনেক মানুষই বছর-ব্যাপী এই সমস্যায় ভুগেও এর প্রকৃত কারণ বুঝতে পারেন না। তাই, রুটি খাওয়ার পর এ ধরনের কোনো লক্ষণ প্রতিদিন দেখা দিলে গ্লুটেন সংবেদনশীলতার ভেবে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গ্লুটেন-মুক্ত বিকল্প-এর দিকে ঝুঁকাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
আরো পড়ুনঃ শীতকালের পিঠার নাম
শেষ কথাঃ রুটি খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা
রুটি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা রুটি সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে বলা যায় যে এটি সহজাত ভাবে ভালো বা খারাপ কোনো খাদ্য নয়,এটি একটি নিরপেক্ষ উপাদান যার গুণাগুণ সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে আমরা তা কীভাবে নির্বাচন ও ব্যবহার করি তার উপর। গোটা শস্যের আটায় প্রস্তুতকৃত রুটি যখন পরিমিত পরিমাণে এবং একটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তখন তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হয়ে ওঠে। এটি শক্তির একটি স্থায়ী উৎস হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি হজমক্রিয়াকে সচল রাখে।
হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে এবং দীর্ঘস্থায়ী বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।এর মধ্যে নিহিত আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।অন্যদিকে, রুটি সম্পর্কিত সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। পরিশোধিত ময়দার রুটি রক্তে শর্করার মাত্রা তা সৃষ্টি করতে পারে এবং ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। গ্লুটেন সংবেদনশীলতা বা সিলিয়াক ডিজিজে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য রুটি একটি গুরুতর হুমকিস্বরূপ।
এছাড়াও বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত রুটিতে অতিরিক্ত লবণ ও প্রিজারভেটিভের উপস্থিতি স্বাস্থ্যের জন্যে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।সুতরাং, রুটিকে আমাদের খাদ্যতালিকা থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া নয়, বরং এটি সম্পর্কে সচেতন ও জ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণই হলো মূল বিষয়। গোটা শস্যের রুটি বেছে নেওয়া, পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা এবং একে ডাল, শাকসবজি ও চর্বিবিহীন প্রোটিন এর সাথে করে খাওয়ার মাধ্যমে আমরা এর সর্বোচ্চ উপকারিতা অর্জন করতে পারি,সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিকগুলো এড়িয়ে যেতে পারি।



সফটনড়িতে নীতিমালা ; মেনে ;কমেন্ট করুন ;প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url